বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
বাগুইআটির জনসভার আগে মমতা বরাহনগরে পদযাত্রা করেছেন। ডানলপ মোড় থেকে সিঁথির মোড় পর্যন্ত হাঁটেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন সেখানকার প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পদযাত্রার সময় পুলিশ যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল তা নিয়ে অসন্তুষ্ট মমতা। জানিয়েছেন, সরু ফিতে দিয়ে ভিড় আটকানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন ভোটের মুখে এখন নির্বাচন কমিশের নিয়ন্ত্রণে। সেই কারণেই তাদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। বলেন, ‘‘বরাহনগরে পুলিশের নিরাপত্তা ঢিলেঢালা ছিল। আমি চার জায়গায় স্ট্যাম্পেড আটকেছি। মহিলাদের টেনে তুলেছি। তার পর এখানে এলাম। রাস্তায় লক্ষ লক্ষ লোক। সরু ফিনফিনে দড়ি নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল। বিজেপির মিটিংয়ের জন্য তো বড় ব্যারিকেড রাখা হয়। একটা স্ট্যাম্পেড হয়ে গেলে কে দায়িত্ব নেবে?’’
মমতা বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে কাউন্টিংয়ে লোডশেডিং করে দিয়েছিল। সকাল থেকে ওরা বিজেপির দিক থেকে গুনবে। বিজেপি জিতছে বলে রটিয়ে দেবে। তাতে কেউ চিন্তা করবেন না। আমরাই জিতব। গণনার সময় তাই পাহারা দিতে হবে।’’
মমতা বলেন, ‘‘আমি নাকি ভবানীপুরে হারব? বরং বিজেপি এ বার গুজরাতেও হারবে। অগস্টের পর থেকেই পতন ঘনিয়ে আসছে দিল্লির সরকারের। আমরা ধ্বংস চাই না। কিন্তু অধঃপতনেরও তো সীমা আছে। কোনও জায়গায় তো ঈশ্বর আছেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘ব্যবসায়ী, হকার, বেকার সকলে থাকবে। সংবিধানে সকলের অধিকার থাকবে। এটাই আমাদের দেশ। ইডি-রাজ চলবে না।’’
মমতা বলেন, ‘‘বাংলার জন্য এত লোভ! সকলকে চমকে মাথা নত করিয়েছ। আমাকে পারোনি। তাই আমার উপর এত রাগ! ওরা গর্জালে আমি বর্ষাই। আমিই মানুষের ভরসা।’’ পশ্চিমবঙ্গ জয় করে দিল্লি জয়ের ডাক দিয়েছেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘‘আমি নাকি বেকারত্ব বাড়িয়ে দিয়েছি। আমি গর্বের সঙ্গে বলছি, এ রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। কিন্তু সারা দেশে আপনি কিছুই করেননি।’’ রাজারহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতা জানান, একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সেখানে ২০ লক্ষ লোক দাঁড়াতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক শিল্পীদের অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন।’’
মমতা বলেন, ‘‘ঠিক সময়ে মুখ খুলব, সময় আছে। সব প্রমাণ রেখে দিয়েছি। আমি মনে করি, সব কিছুতে সৌজন্য থাকা উচিত। সীমা লঙ্ঘন করতে নেই। কিন্তু আপনি করলে আমরাও সীমা লঙ্ঘন করতে পারি। আমরা আপনাদের মতো নই।’’
বাগুইআটি থেকে বিজেপির অনুপ্রবেশকারী কটাক্ষের জবাব দিলেন মমতা। বলেন, ‘‘বাংলা নাকি অনুপ্রবেশের কারখানা। তা হলে আপনাদের বিএসএফ কী করছিল? সে তো আপনাদের দায়িত্বে। সিআইএসএফ কী করছিল? কাস্টম্স, পাসপোর্ট, এয়ারপোর্ট, রেল সব তো কেন্দ্রের হাতে। অমিত শাহকে আগে তা হলে পদত্যাগ করতে বলুন!’’
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘মোদী এসে বলেছেন, বিহারে নাকি এত মাছ উৎপাদন হয় যে তারা বাইরেও পাঠায়। কিন্তু ওরা তো মাছ খায়ই না। আপনিই খেতে দেন না। তা হলে তারা মাছ রফতানি করবে না তো কী করবে? কে কী খাবে, কী পরবে, তা নিজস্ব ব্যাপার।’’ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ‘‘মমতাজি মাছ উৎপাদন করতে দেননি। বাঙালি তো মাছ খেয়েই বেঁচে থাকে।’’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলিতে টেলিপ্রম্পটারের সাহায্যে মোদীর ইংরেজিতে কথা বলাকেও কটাক্ষ করেছেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘‘সংবিধান মানছেন না। রাজ্যের ক্ষমতা কেড়়ে নিচ্ছেন। নিরপেক্ষ এজেন্সিগুলোকে একপক্ষের করে দিয়েছেন। আমি কমিশনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা গর্বিত। তৃণমূল লড়াই করতে ছাড়ে না, ওরা বুঝেছে। মরবে, তবে লড়াই ছাড়বে না। মানুষের পাশ থেকে সরবে না। এসআইআর-এর সময় তৃণমূল রাস্তায় ছিল। কে হিন্দু, কে মুসলমান আমরা তো দেখিনি!’’
বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালি আবেগকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘নেতাজি এই দেশের জন্য লড়াই করলেন, জয় হিন্দ স্লোগান দিলেন, তাঁর প্ল্যানিং কমিশন ওরা উঠিয়ে দিয়েছে। এখন বলছে, তিনি নাকি সাম্প্রদায়িক ছিলেন! বিদ্যাসাগর আমাদের মাতৃভাষা শেখালেন। তাঁর মূর্তি ভাঙছে। রামমোহন রায় অনেক সামাজিক সংস্কার করেছিলেন। তাঁকেও অসম্মান করছে। গান্ধীজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সকলকে অসম্মান করা হচ্ছে। রবীন্দ্র সান্যাল বলা হচ্ছে! নামটাই জানে না! এরা আবার ভোট চায়! মাতঙ্গিনী হাজরার নামও ভুল বলেছে। আমি সেই ভুল নাম উচ্চারণ করব না। বিরসা মুন্ডার নাম করে অন্য এক জনের গলায় মালা দিচ্ছেন। অম্বেডকরের জাত কখনও আমরা জিজ্ঞেস করি? গান্ধীজিকে জাত জিজ্ঞেস করি? এরা তা-ই করছে।’’
বরাহনগরের পদযাত্রায় পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা। বাগুইআটি থেকে তিনি বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ঢিলেঢালা ছিল। এখন তো ভোট আসছে। আমি চার জায়গায় স্ট্যাম্পেড আটকেছি। মহিলাদের টেনে তুলেছি। তার পর এখানে এলাম। রাস্তায় লক্ষ লক্ষ লোক। সরু ফিনফিনে দড়ি নিয়ে পুলিশ দাঁড়িয়েছিল। বিজেপির মিটিংয়ের জন্য তো বড় ব্যারিকেড থাকে। একটা স্ট্যাম্পেড হয়ে গেলে কে দায়িত্ব নেবে?’’
মঞ্চে অদিতির হাত ধরে মমতা বলেন, ‘‘আমার সবচেয়ে প্রিয় প্রার্থী। ওর বাচ্চা হয়েছে, নব্য শিশু। আমি দেখতে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম তোমাকেই দাঁড়াতে হবে।’’ এ ছাড়া মঞ্চে ছিলেন অদিতির স্বামী তথা কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী, দমদমের সাংসদ সৌগত রায়ও।
রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি এবং বিধাননগরের প্রার্থী সুজিত বসুর সমর্থনে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে। মমতাই প্রধান বক্তা।
জেলায় জেলায় ঘুরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তাঁর কর্মসূচি কলকাতার উপকণ্ঠে। সকালে মিনাখাঁর জনসভা দিয়ে প্রচার শুরু করেছিলেন মমতা। তার পর নোয়াপাড়া এবং আগরপাড়ায় সভা করেছেন। বরাহগনগরে পদযাত্রা সেরে দিনের শেষে তাঁর চতুর্থ জনসভা রয়েছে বাগুইআটিতে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy