মা হওয়া নয় মুখের কথা? না কি বাবা? বিশেষ করে সন্তান যদি কন্যা হয়। আজও বিশ্ব তার কাছে নিরাপদ নয়। কখনও ভেবে দেখেছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়?
ছবির দৃশ্যে দেবাশিস রায় এবং দেবরাজ ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত।
যাঁদের মনে এরকম প্রশ্ন, তাঁদের জন্য সুখবর। আগামী পিতৃদিবসে ‘বাবা’ হচ্ছেন অভিনেতা! তাঁর কোলে কন্যা আসছে। অবশ্যই সবটা ঘটবে বড়পর্দায়। জিৎ চক্রবর্তীর পঞ্চম ছবি ‘বাবা’তে। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে ছবির পোস্টার। প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আনল আনন্দবাজার ডট কম। ছবিমুক্তি ১৯ জুন।
পরিচালক জিৎ চক্রবর্তীর ‘বাবা’ ছবির পোস্টার। ছবি: সংগৃহীত।
এই প্রথম বাবার চরিত্রে বিক্রম। কেমন লাগল? প্রশ্ন করতে ফোনের ও পারে হাসির শব্দ। অভিনেতা বললেন, “আমার মেয়ে হয়েছে অশ্লেষা। ওকে নিশ্চয়ই সমাজমাধ্যমে দেখেছেন। মাত্র ১০ মাস বয়স। কী যে মিষ্টি!” অভিনেতা তাঁর খুদে নায়িকাকে নিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত। বাস্তবে না হোন, পর্দায় মেয়ের বাবা হতে পারবেন বলেই কি রাজি তিনি? অভিনেতা বিষয়টি অস্বীকার করেননি। জানিয়েছেন, একে এই প্রথম বাবার চরিত্রে অভিনয়। তার উপর বাবা-মেয়ের হৃদয়ছোঁয়া গল্প। তিনি লোভ সামলাতে পারেননি।
অপরাজাতি আঢ্য এবং বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
অনাথ আশ্রমে বড় হওয়া এক তরুণ সাংবাদিকের স্বপ্ন, নতুন পৃথিবী গড়া। ছেলেবেলার সঙ্গিনীকে বিয়ে করে সংসার পাতে সে। কন্যাসন্তানের বাবাও হয়। আর তার পরেই আচমকা হদিস পায় এক শিশুপাচার চক্রের। তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সে। একদিকে বাবার অনুভূতি, অন্য দিকে তার সাংবাদিক সত্তা। কে জয়ী হবে? এটাই ‘বাবা’ ছবির গল্প, জানালেন পরিচালক জিৎ। পিতৃদিবস উপলক্ষে তিনি বানিয়েছেন ছবিটি। জিতের কথায়, “ছবির ট্যাগলাইন, ‘সন্তানের জন্য মরার আগে দু’বার ভাবব না, আর মারার আগে একবারও ভাবব না’। ‘বাবা’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক অনুভূতি, যেখানে একজন বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সন্তানের জন্য তার সীমাহীন ভালোবাসা এবং লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।” বিক্রম ছাড়া ছবিতে অভিনয় করেছেন কিরণ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, মমতাশঙ্কর, দেবরাজ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বনাথ বসু-সহ অনেকে। এই ছবি দিয়ে পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাতেও পা রাখছেন জিৎ।
বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও কিরণ মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত।
মেয়েদের জন্য পৃথিবী এখনও নিরাপদ নয়। সেখানে এক কন্যাসন্তানের বাবার কী বার্তা হওয়া উচিত? ফের প্রশ্ন বিক্রমকে। জবাব এল, “আমার চোখে নারী ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আমার যাবতীয় ভাল আমার মা, বোন আর বাবার জন্য। শুধু ওঁরা নন, আমাদের আশাপাশের সমস্ত নারী, বন্ধু কিংবা মাতৃস্থানীয়া, তাঁদের ভালটা দিয়েই সংসার গড়েন। তাই আমাদেরও উচিত, ওঁদের ভাল রাখা।”