রাজ্যে ভোট যাতে অবাধ, স্বচ্ছ হয়, মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা বন্দুক পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে এমনটাই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
দিন কয়েক আগে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই বন্দুক উদ্ধার করে ইডি। পাপ্পু পরে সমাজমাধ্যমে ‘লাইভ’ করে দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে তল্লাশি করে ইডি কিছু পায়নি। নিজেদের অস্ত্র রেখে দিয়ে তাঁকে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে। সেই তল্লাশি অভিযানের ভিডিয়ো চেয়েছেন পাপ্পু।
ইডি বিবৃতিতে দাবি করেছে, ১ এপ্রিল পাপ্পু, জয় এস কামদার এবং আরও কয়েক জনের বাড়ি-সহ আটটি জায়গায় তল্লাশি করা হয়েছে। তল্লাশির সময়ে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। ৬৭ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার সোনা, রুপোর গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময়ে পাপ্পুর ব্যবহার করা একটি ফরচুনার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি রিভলভার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যাতে লেখা ছিল ‘মেড ইন ইউএসএ’। রাজ্যে ‘অবাধ, স্বচ্ছ, ভয়হীন’ বিধানসভা ভোট নিশ্চিত করতে সেই অস্ত্র পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ইডির দাবি, রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের রুজু করা বেশ কয়েকটি এফআইআরের ভিত্তিতে পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইডি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫৯ সালের অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কাঁকুলিয়ায় গন্ডগোলের ঘটনায় তাঁকে খুঁজছে পুলিশ। সিন্ডিকেট করে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও রয়েছে পাপ্পুর বিরুদ্ধে। তিনি এখন পলাতক। ইডি তাঁকে সমন পাঠালেও হাজিরা দেননি বলে দাবি বিবৃতিতে।
আরও পড়ুন:
পাপ্পু ‘লাইভে’ এসে দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবাকে ইডির অভিযানের সময়ে ‘অত্যাচার’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বাড়ি ইডি, এজেন্সি দিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে। আমার স্ত্রীকে ১৪ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে টর্চার করেছে।’’ পাপ্পুর আরও দাবি, তাঁর বাবার বয়স ৮০ বছর। তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। তার পরেও তাঁকে ১৪ ঘণ্টা ধরে জল দেওয়া হয়নি। শৌচালয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। এখানেই থামেননি পাপ্পু। তাঁর দাবি, তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে ইডি। তিনি ‘লাইভে’ বলেন, ‘‘আমার ঘরে তল্লাশি করে কিছু পায়নি। শেষে নিজেদের অস্ত্র রেখে আমার বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় কেস দিয়েছে। ভিডিয়ো ফুটেজ দেখান। রেড করতে এসে ভিডিয়ো করা উচিত আপনাদের।’’
রবীন্দ্র সরোবরে গন্ডগোলের ঘটনায় নাম জড়ায় পাপ্পুর। এই ঘটনায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁর বাড়িতে বুধবার তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করে ইডি। এ ছাড়াও সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি দামি গাড়ি এবং বেশ কিছু সম্পত্তির নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ইডি সূত্রে জানানো হয়েছে, সোনা পাপ্পুর নামে বেশ কয়েকটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা পাপ্পু।