কৌশিক আর আমার বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ানোর নেপথ্যে আমার ছেলে। ঘেঁটু আমাদের মাঝে না থাকলে হয়তো সম্পর্ককে এই ভাবে গড়ব বলে ভাবতামই না। ওর ভাল নাম সুস্নাত। কিন্তু আমি যখন যেমন ইচ্ছা হয় সেই নামে ডাকি। যে নামেই ডাকি, ও ঠিক সাড়া দেয়। তখন ওর ১৩ বছর বয়স। যখন আমি ওদের জীবনে আসি।
আমার আর ঘেঁটুর সম্পর্কের মাঝে কিন্তু কৌশিক নেই। ১৩ বছরের শিশুকে যখন দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল ওর জীবনে সত্যিই মায়ের দরকার। রক্তের সম্পর্কই যে আসল। এই ভাবনায় আমি কোনও দিনই বিশ্বাসী নই। তাই কোনওদিনই মনে হয়নি, আবার নতুন কাউকে আনব। একটা কথাই বার বার ভাবতাম, যে শিশু মায়ের আদর, ভালবাসা থেকে বঞ্চিত, তাকেই নিজের সবটা দিয়ে বড় করি। শুধুমাত্র আমার গর্ভজাত সন্তান নয় বলে নতুন কাউকে আনব, আবার তাকে বঞ্চিত করে দেব? আমি কোনও দিনই তথাকথিত পথে হাঁটার ভাবনায় নিজেকে তৈরি করিনি। তাই আমার জীবনও আর পাঁচ জনের মতো চেনা ছকে এগোয়নি।
আমরা কোনও দিন আলাদা করে মাতৃদিবস পালন করিনি। ১৩ বছর বয়স থেকে ছেলের আমার সঙ্গে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ও সবসময় আমাকে বলে এসেছে, ওর সব সিদ্ধান্তে যেন আমি পাশে থাকি। ওকে বড় করার ক্ষেত্রে তাই মাথার চেয়ে হৃদয়কেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলাম আমি। প্রকৃতিগত ভাবে আমার মধ্যে যে মাতৃত্ববোধ আছে সেটা ব্যবহার করেছিলাম। চেয়েছিলাম ও যেন সৎ পথে নিজের মতো বড় হয়। আর ওর মধ্যে যে একটা শূন্যতা আছে সেটা টের পেয়েছিলাম।
কৃষ্ণের জীবনেও তো দুই মা ছিল। এক জন জন্মদাত্রী। আর অন্য জন যিনি কৃষ্ণকে বড় করেছিলেন। আসলে এই বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক আবেগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে যদি এমন কোনও ঘটনা চোখের সামনে হয়, তা হলে সেটা সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে আমি কখনও এই সব নিয়ে ভাবিনি। অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি আমরা। এখন ও-ই আমার বাবা। আমার বড় আশ্রয়ের জায়গা। আমি শুধু ওরই ‘মাম্মাম’। এত বছর পরে এসে একটাই কথা উপলব্ধি করেছি, ১৩ বছরের শিশুটা আমাকে এত ভালবাসা দিয়ে আগলে না নিলে, হয়তো সম্পর্কগুলো এই ভাবে তৈরি হত না।