Advertisement

নবান্ন অভিযান

রাজ‍্যে প্রথম দফার ভোটের আগের দিন অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব বিপ্লব, ‘সুধী সমাজ’-এর সঙ্গে বৈঠকে নিতিন, কন্ট্রোলরুম খুললেন সুকান্ত

বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জনসভা ছিল। তেমনই ভোটপ্রচারে রাজ্যে ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব দেব, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫৩
Biplab Dev, Nitin Naveen to campaign in West Bengal on Wednesday, Sukant Majumdar launches control room

(বাঁ দিক থেকে) বিপ্লব দেব, নিতিন নবীন এবং সুকান্ত মজুমদার। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার। তার আগের দিন রাজ্যে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিলেন বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। যেমন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জনসভা ছিল, তেমনই ভোটপ্রচারে রাজ্যে ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব দেব, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও। শুধু তা-ই নয়, প্রথম দফার ভোটে নজরদারি চালাতে ‘ওয়ার রুম’ চালু করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সকলের জন্য চালু করলেন কন্ট্রোলরুমও।

বুধবার রাজ্য বিজেপির প্রধান কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিপ্লব। ওই সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অনুপ্রবেশ-অস্ত্রে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিপ্লব। তাঁর অভিযোগ, ‘‘রাজ্য সরকারের গাফিলতির কারণে ৪৪৭ কিলোমিটার সীমান্ত বিএসএফ-কে দেওয়া সম্ভব হয়নি।। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার বার বললেও এই সরকার কর্ণপাত করেনি।’’

রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাস বদলের অভিযোগ তোলেন বিপ্লব। তাঁর কথায়, ‘‘সীমান্ত এলাকায় লাফিয়ে বাড়ছে সংখ্যালঘু অনুপ্রবেশের সমস্যা। আর সেই কারণেই বাংলাদেশিরা হুমকি দেওয়ার সাহস পান। চিকেন নেক ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলেন।’’ ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানাতে চান।’’ এ রাজ্যে জঙ্গি মডিউল বাড়ছে বলে উদ্বেগপ্রকাশ করেন বিপ্লব।

অন্য দিকে, বুধবার রাজ্যের ‘সুধী সমাজ’-এর সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সেখানে দেশের সংস্কৃতি, স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ‘সুধী সমাজের’ মতামত চান নিতিন। শোনান নিজের অভিজ্ঞতার কথাও। তাঁর কথায়, ‘‘লালচকে বিজেপির তিরঙা তুলতে যাওয়ার কর্মসূচিতে ছিলাম আমি। সেই সময় শ্রীনগরের লালচকে পাকিস্তানের পতাকা উড়ত। ওই কর্মসূচির জন্য বিজেপি যে ভারতের জাতীয় পতাকা নিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় ঢুকবে তার উপায় ছিল না। তল্লাশি চলছিল। আমরা লুকিয়ে জাতীয় পতাকা নিয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় জম্মুতে ছাপা খবরের কাগজ কাশ্মীরে যেত। সেই খবরের কাগজের খামে ভরে লোকের বাড়িতে বাড়িতে জাতীয় পতাকা পাঠিয়েছিলাম আমরা।’’

সেই সঙ্গে ২০১২ সালে দলীয় কাজে অরুণাচল প্রদেশে গিয়ে তাঁর কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা-ও তুলে ধরেন নিতিন। চিন সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুরে দেখেছিলেন। সেই কথা বলতে গিয়ে নিতিন বলেন, ‘‘আমরা দেখেছিলাম চিন সীমান্ত পর্যন্ত রাস্তা বানিয়ে রেখেছে, কিন্তু ভারত করেনি। সীমান্তের বেশ কিছুটা আগে থেকে রাস্তা বানানো বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ জানতে চাওয়া হলে তখন আমাদের বলা হয়েছিল সরকার মনে করে, ওখানে ভাল রাস্তা বা পরিকাঠামো বানাই তবে চিনা সেনা ঢুকে পড়বে।’’ নিতিন এই দুই জায়গার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এখনকার পরিস্থিতির তুলনা টেনেছেন। ‘সুধী সমাজের’ উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘লালচক হোক বা অরুণাচলের সীমান্ত এলাকায় গিয়ে এখন দেখে আসুন কী পরিস্থিতি। ২০১৪ সালের পর থেকে সব পাল্টেছে।’’

প্রথম দফার ভোটের দিন নিজের সংসদ এলাকাতেই থাকছেন সুকান্ত। বালুরঘাট সাংসদ কার্যালয়ে একটি ‘ওয়ার রুমের’ আয়োজন করা হয়েছে। সেখান থেকেই সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন তিনি। এ ছাড়াও, ভোটের দিন কেউ কোনও অসুবিধায় পড়লে বা অভিযোগ জানাতে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন সুকান্ত।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP Election Campaign
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy