Advertisement

নবান্ন অভিযান

এন্টালিতে প্রচারে বেরিয়ে প্রিয়ঙ্কার উপর ‘হামলা’! কমিশনের কাছে ক্ষোভ বিজেপি প্রার্থীর, অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের

প্রচার ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালে সেখানে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫৮
এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। মঙ্গলবার প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় তাঁর প্রচার ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।

এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। মঙ্গলবার প্রগতি ময়দান থানা এলাকায় তাঁর প্রচার ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। — নিজস্ব চিত্র।

এন্টালির বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়ালের প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল প্রগতি ময়দান থানা এলাকায়। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা প্রিয়ঙ্কার উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থীকে প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রগতি ময়দান থানায় দু’টি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

কমিশন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ বিজেপি প্রার্থী প্রিয়ঙ্কা কলকাতা পুরসভার ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাজঘাট এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেন। তাঁর প্রচার চলাকালীন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা বাধা দেন। প্রচুর লোক জমায়েত করে প্রচারে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সঙ্গে থাকা পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। এবং ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের উপরও হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রার্থী আর প্রচার করতে পারেননি।

পরে ওসি এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই ঘটনায় তিন জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। ঘটনায় ইতিমধ্যে ৬ জন মহিলা-সহ মোট ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে এলাকায় পুলিশি অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে একটি পুলিশ পিকেটও বসানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘটনায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে গিয়ে অভিযোগও জানিয়েছেন প্রিয়ঙ্কা। বিজেপি প্রার্থীর বক্তব্য, তাঁর উপরেও হামলা হয়েছে। পরে তিনি জানান, যখন তাঁর উপর হামলার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন সকলে মিলেই তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এর মধ্যেও একটি ঘা তাঁর গায়ে এসে পড়েছে।

প্রচার ঘিরে উত্তেজনা ছড়ালে সেখানে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। ধাক্কাধাক্কিও হয় দু’পক্ষের। পরে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের চেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সিইও দফতর থেকে বেরিয়ে প্রিয়ঙ্কা জানান, বিজেপির উপর হামলা করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ভবিষ্যতে প্রাণনাশের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তিনি।

প্রিয়ঙ্কা বলেন, “আমি প্রার্থী হিসাবে কমিশনকে বলেছি— এক জন প্রার্থীকে আপনারা নিরাপত্তা দিতে পারছেন না। তা হলে মানুষকে আপনারা কী ভাবে বোঝাবেন যে, কোনও অপ্রিয় ঘটনা ঘটবে না। আপনাদের ফ্রি হ্যান্ড দিতে হবে সিআরপিএফ-কে। আজ যদি সিআরপিএফের কাছে অর্ডার থাকে লাঠিচার্জ করার, তা হলে এই দুষ্কৃতীরা একদম লাইনে চলে আসবে। যারা যে হিসাবে বোঝে, সেই হিসাবে বোঝাতে হবে। কথায় আছে, লাঠের ভূত মুখে কথা শোনে না। লাঠে ভূতেদের লাঠেই কথা শোনাতে হবে।” প্রিয়ঙ্কার দাবি, যে এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে বিজেপি ভাল ভোট পায়। সেই কারণেই বিজেপির ওই এলাকায় প্রবেশ আটকানোর জন্য পূর্ব পরিকল্পনামাফিক এটি ঘটানো হয়েছে।

এন্টালির বিজেপি প্রার্থীর দাবি, গত দু’দিন ধরে তাঁদের উপর হামলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, “গত পরশু ট্যাংরা থানা এলাকায় তৃণমূলের একটি দল আমাদের উপর অ্যাটাক করে। ট্যাংরা থানাকে বার বার জানানোর পরেও এ সব হয়েছে। সিআরপিএফ এসে আমাদের বার করে। গতকাল তপসিয়া থানা এলাকাতেও একই ঘটনা ঘটেছে।” প্রিয়ঙ্কার অভিযোগ, সোমবারের ঘটনায় কয়েক জনের কাছে অস্ত্রও ছিল। মঙ্গলবারের ধাপা এলাকার ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ওসি-কে সকাল থেকে তিন বার করে বলা হল যে, ওই এলাকায় ঝামেলা পাকাতে পারে তৃণমূল। কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। তারা ওখানে সিআরপিএফকেও রাখেনি। যখন আমাদের ঘিরে নেওয়া হল, যখন মহিলাদের উপর লাঠি, ডান্ডা, লোহার রড দিয়ে হামলা শুরু হল— তখন আমরা থানায় বলে সেখানে সিআরপিএফ ঢোকাই। তাতেও পুলিশ সেখানে মব কন্ট্রোল করতে পারেনি। যে কোনও অপ্রিয় ঘটনা সেখানে ঘটতে পারত। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ সিআরপিএফ-কে বলেনি একটু লাঠি প্রয়োগ করার জন্য। নিজেরাও করেনি। কয়েক জন মহিলা পুলিশকর্মীও মার খেয়েছেন।”

যদিও প্রিয়ঙ্কা যে হামলার অভিযোগ তুলছেন, তা অস্বীকার করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “যাঁর নিজের এলাকাতেই কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই, তাঁকে তৃণমূল কেন আগ বাড়িয়ে ফুটেজ দিতে যাবে। আমরাই কমিশনে অভিযোগ করেছি যে, প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল তাঁর হলফনামায় স্বামীর ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তির উল্লেখ করেননি। এই অভিযোগ বিজেপির মধ্যেও রয়েছে। উনি বিজেপিতে কোনঠাসা। তাই বাজার গরম করার জন্য এ সব অভিযোগ করছেন।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP TMC Priyanka Tibrewal West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy