Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলায় নাবালিকা মেয়ের সামনে মাকে মার! অভিযুক্ত বিজেপি নেতা গ্রেফতার

পাণ্ডবেশ্বরের বাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রাবণী চক্রবর্তীর বাড়িতে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনী প্রচারে যায়। অভিযোগকারিণীর দাবি, বিজেপি নেতারা তাঁকে পদ্ম চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০১

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তৃণমূলকেই ভোট দেবেন— এই কথা বলায় বধূকে তার নাবালিকা কন্যার সামনে মারধরের অভিযোগ উঠল এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। মহিলার শিশুকন্যাকেও চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ। রেহাই পাননি স্বামীও। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পদ্মশিবিরের পাল্টা অভিযোগে তৃণমূলের এক জনও পাকড়াও হয়েছেন। ওই ঘটনাকে ঘিরে ভোটের মুখে তপ্ত পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকাল ১০টা নাগাদ। পাণ্ডবেশ্বরের বাঙালপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্রাবণী চক্রবর্তীর বাড়িতে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচনী প্রচারে যায়।

অভিযোগকারিণীর দাবি, বিজেপি নেতারা তাঁকে পদ্ম চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, তাঁর ভোট পাবে তৃণমূল। এ কথা শুনেই নাকি মেজাজ হারান প্রহ্লাদ শাহ নামে এক বিজেপি নেতা। তিনি সকলের সামনে শ্রাবণীকে চড় কষান। শ্রাবণীর ছোট মেয়ের গালেও থাপ্পড় মারেন। স্ত্রী-কন্যাকে মারধরের প্রতিবাদ করায় মহিলার স্বামীকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।

ঘটনার পরেই পাণ্ডবেশ্বর থানার দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। শ্রাবণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তৃণমূল নেতৃত্ব জানান, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি সাধারণ ভোটারের গায়ে হাত তুলতেও ছাড়ছে না বিজেপি। যদিও বিজেপি পাল্টা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারের সময় তৃণমূলের লোকজন তাদের নেতাদের বাধা দেন। হেনস্থা করেন। এ নিয়ে পদ্মশিবির থানায় অভিযোগ করেছে। তার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Paschim Bardhaman bjp leader arrested tmc leader arrested bjp tmc clash
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy