Advertisement

নবান্ন অভিযান

অভিষেকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ, তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ বিজেপির

বিজেপির অভিযোগ, রায়নায় অভিষেক যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা প্ররোচনামূলক, শুধু তা-ই নয়, এই ভাষার মাধ্যমে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৪
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উস্কানি এবং প্ররোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশ জানিয়ে চিঠি দিল বিজেপি। সেখানে অভিযোগ জানানো হয়েছে, অভিষেক পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিজেপি এবং দলীয় কর্মীদের ওই সভা থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের মন্তব্যে হিংসা ছড়াতে পারে। রাজ্যের পরিবেশ অশান্ত হতে পারে বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, রায়নার জনসভায় অভিষেক যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটি চিঠিতে উল্লেখ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, ওই জনসভা থেকে অভিষেক বলেছিলেন, ‘‘প্রথম দফায় উত্তর দিক থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত যেখানে যেখানে ভোট হবে, সেখানে সবাই বিজেপির মাথা, ঘাড়, হাত ও পা ভেঙে দাও। আর দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায় তাদের ঘাড় ও মেরুদণ্ড ভেঙে বলো ‘বলো হরি, হরি বল, বহিরাগতদের খাটে তোল’ বলে বিদায় করে দেব।’’

কমিশনের কাছে বিজেপির অভিযোগ, রায়নায় অভিষেক যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, যে ধরনের ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা অত্যন্ত প্ররোচনামূলক, শুধু তা-ই নয়, এই ভাষার মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন একটি হুমকি এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন। এই ধরনের মন্তব্য গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। অভিষেকের পাশাপাশি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়েও চিঠিতে অভিযোগ করেছে বিজেপি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই ধরনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে ভোটের পরিবেশকে অশান্ত করতে চাইছেন বলেও অভিযোগ বিজেপির।

চিঠিতে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ভোটপরবর্তী ‘হিংসা’র প্রসঙ্গও তুলেছে বিজেপি।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy