ভোটের দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক করে উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন। তবে ফলতায় তাঁর ‘গর্জন’ নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই পুলিশ পর্যবেক্ষক ‘সিংহম’ অজয়পাল শর্মার ভূমিকা নিয়ে সোমবার থেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে তৃণমূল। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে। মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও এখনই তা শুনবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের মন্তব্য, ‘‘বুধবার ভোটগ্রহণ। তার আগে এই মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করব না।’’
মঙ্গলবার বিচাপতি রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অজয়ের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চাওয়া হয়। আবেদন শুনে বিচারপতি রাও জানান, নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন এমন কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ করা হবে না। আদালত অনুমতি দিলেও এখনও পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। হাই কোর্ট জানায়, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না-হওয়া পর্যন্ত শুনানি হবে না।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ভিডিয়ো। সোমবার অজয়পালের একটি ভিডিয়ো (যদিও ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম) প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সামনে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে ‘হুঁশিয়ারি’র সুরে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে অজয়পালকে। দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োটি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির কাছেই। সেখানে তৃণমূল প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশেও ‘বার্তা’ দিতে দেখা গিয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিয়োকে ঘিরেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
ফলতার ঘটনায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল জানান, অজয় চাইলে ফলতা বিধানসভা এলাকায় জমায়েত, বিক্ষোভ নিয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে পারেন। তবে কমিশন নিজে থেকে কোনও রিপোর্ট তলব করেনি। সোমবারের পর মঙ্গলবারও আলোচনায় অজয়। মঙ্গলবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর প্রায় সামনাসামনি হল অজয়ের কনভয়। ফলতায় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সেই কনভয় যাওয়ার সময় ওঠে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। বিক্ষোভের জেরে খানিক ক্ষণের জন্য অজয়পালের কনভয়ের পিছনের দিকে কয়েকটি গাড়িও আটকে যায়।