ভোটের আগের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা এলাকায় জমায়েত, বিক্ষোভ নিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা চাইলে নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দিতে পারেন। কিন্তু নিজে থেকে তাঁর কাছে এখনই রিপোর্ট চাইছেন না রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার অগ্রবাল। মঙ্গলবার দুপুরে এমনই জানালেন তিনি।
বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে যাতে কোনও প্রকারের অশান্তি না-হয়, নজর রাখছে কমিশন। ১৪২টি বিধানসভার নানা এলাকায় এলাকায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। চলছে রুটমার্চ। মঙ্গলবার ফলতা বিধানসভা এলাকায় গিয়েছিলেন পুলিশ পর্যবেক্ষক তথা উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয়পাল। সোমবার সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ি গিয়ে তাঁর পরিচিতদের ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে এসেছিলেন আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। বলেছিলেন, ভোটারদের কোনও প্রকার হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। জাহাঙ্গির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, দলীয় কার্যালয়েও গিয়েছিলেন ‘সিংহম’ শর্মা। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কথা বলেননি। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বাড়ি গিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছেন।
মঙ্গলবার জাহাঙ্গির এবং তাঁর অনুগামীরা পুলিশ পর্যবেক্ষকের কনভয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, অযথা অভিযোগ করা হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে। সাধারণ ভোটারদের ভয় পাইয়ে দিচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিজেই। বিজেপির কথায় কাজ করছেন তিনি।
এর মধ্যে সিইও মনোজকুমার জানিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জমায়েত, বিক্ষোভ ইত্যাদি পুলিশ পর্যবেক্ষকের নজরে রয়েছে। তিনি চাইলে রিপোর্ট দেবেন। তার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে। সিইও দফতর এখনই কিছু করবে না। এ ছাড়া সেখানে ঠিক কী হয়েছে, তা নিয়ে ডিইও, পুলিশ কোনও রিপোর্ট দিলে পদক্ষেপ করা হবে। তবে এই মুহূর্তে কোনও রিপোর্ট চাওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। সিইও-র কথায়, ‘‘আমাদের কাছে কোনও সাহায্য চাইলে করব।’’
আরও পড়ুন:
মনোজের সংযোজন, ‘‘ভোটারদের ভয় দেখানো বেআইনি কাজ। কারও অধিকার নেই ভোটারদের হুমকি দেওয়ার। আইনশৃঙ্খলা খারাপ হলে পুলিশ তো তার কাজ করবেই। কোনও ভোটারকে ভয় দেখানো হলে আমাদের অভিযোগ জানান। আমরা ব্যবস্থা নেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত