Advertisement

নবান্ন অভিযান

বিজেপি ছাড়েন আগেই, ‘বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে’ তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির পৌত্র চন্দ্র বসু

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের এই সদস্য রবিবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজ়াদের উপস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদলে যোগ দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৮
(বাঁ দিকে) কীর্তি আজ়াদ এবং ব্রাত্য বসুর (ডান দিকে) উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু (মাঝে)।

(বাঁ দিকে) কীর্তি আজ়াদ এবং ব্রাত্য বসুর (ডান দিকে) উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু (মাঝে)। ছবি: সংগৃহীত।

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের এই সদস্য রবিবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজ়াদের উপস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদলে যোগ দেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্র। তিনি বলেন, “বিজেপি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ মানে না। বিজেপিতে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।” তৃণমূলে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আজ আমরা দেখছি যে, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াচ্ছে। এখন ভারতকে বাঁচাতে এবং বিভেদের রাজনীতিকে রুখতে লড়াই করতে হবে।”

প্রসঙ্গত, সম্পর্কে নেতাজির পৌত্র চন্দ্র ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসন থেকে ভোটে লড়েন তিনি। কোনও বারই অবশ্য জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। তার পর থেকে অবশ্য নানা বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

বিজেপি ছাড়ার পর একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে চন্দ্রের গলায়। গত ২৭ মার্চ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে চন্দ্র জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “কোনও দলের উদ্দেশ্য যদি হয় নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, তা হলে তা আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয়!”

(এই প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশের সময় চন্দ্র বসুকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু তা সঠিক নয়। সম্পর্কে চন্দ্র বসু নেতাজির পৌত্র। ভুল গোচরে আসার পরেই আমরা তা সংশোধন করে নিয়েছি। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত এবং পাঠকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী)

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Chandra Bose BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy