বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দ্র বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের এই সদস্য রবিবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজ়াদের উপস্থিতিতে রাজ্যের শাসকদলে যোগ দেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্র। তিনি বলেন, “বিজেপি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ মানে না। বিজেপিতে থেকে নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।” তৃণমূলে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আজ আমরা দেখছি যে, বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াচ্ছে। এখন ভারতকে বাঁচাতে এবং বিভেদের রাজনীতিকে রুখতে লড়াই করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, সম্পর্কে নেতাজির পৌত্র চন্দ্র ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসন থেকে ভোটে লড়েন তিনি। কোনও বারই অবশ্য জয়ের মুখ দেখেননি তিনি। তার পর থেকে অবশ্য নানা বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
বিজেপি ছাড়ার পর একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে চন্দ্রের গলায়। গত ২৭ মার্চ সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে চন্দ্র জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বিজেপিতে যোগদান করার সিদ্ধান্ত ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “কোনও দলের উদ্দেশ্য যদি হয় নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা, তা হলে তা আমার পক্ষে মানা সম্ভব নয়!”