Advertisement

নবান্ন অভিযান

শুভেন্দুর রোড শো-তে ধুন্ধুমার হাওড়ায়! বিজেপিকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তৃণমূলের, শুনে ক্রুদ্ধ বিরোধী দলনেতা

বালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহের সমর্থনে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর রোড শো-কে উদ্দেশ্য করে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪৫
বালিতে শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো-তে উত্তেজনা। তৃণমূল সমর্থকদের আচরণে ক্রুদ্ধ শুভেন্দু।

বালিতে শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো-তে উত্তেজনা। তৃণমূল সমর্থকদের আচরণে ক্রুদ্ধ শুভেন্দু। —নিজস্ব চিত্র।

হাওড়ায় শুভেন্দু অধিকারীর রোড শো ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। বুধবার বালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহের সমর্থনে প্রচারে গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর রোড শো-কে উদ্দেশ্য করে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। তাতেই শুভেন্দু ক্রুদ্ধ হন। একটি হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে রোড শো করছিলেন তিনি। সেখান থেকেই উত্তেজিত হয়ে তৃণমূল সমর্থকদের দিকে আঙুল তুলতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁদের হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু।

শুভেন্দুদের রোড শো বালি গোস্বামী পাড়ায় পৌঁছোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মীরা স্লোগান দিলে বিজেপি সমর্থকেরা তাঁদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। বেশ কিছু ক্ষণ পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বালি থানার আইসি-র মদতে এই ঘটনা ঘটেছে।

শুভেন্দুদের কর্মসূচিতে উত্তেজনার ঘটনাকে কটাক্ষ করেছেন স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। তিনি বুধবার সন্ধ্যায় নববর্ষ উপলক্ষে এলাকায় মিছিল বার করেছিলেন। জনসংযোগও করেছেন। শুভেন্দু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী যেমন মানুষ, তাঁর সঙ্গে তেমনই করেছে সাধারণ জনগণ। আমিও তো রাস্তায় বেরিয়েছি। আমাকে তো কেউ চোর বলছে না বা অন্য কোনও স্লোগান দিচ্ছে না! আর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে যদি উনি হুঁশিয়ারি দেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি বাংলার কেউ নন।’’ বালি থানার আইসি প্রসঙ্গে কৈলাস বলেন, ‘‘আগেও শুভেন্দু বালি থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করিয়েছেন। মানুষ সব দেখছে।’’

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দু’টি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন শুভেন্দু। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় হবে ভোটগ্রহণ। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। এর আগে ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে শুভেন্দুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন অশান্তি হয়েছিল। সেই রোড শো-তে ছিলেন অমিত শাহ। তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তি হয়েছিল পুলিশের সঙ্গেও। বালিতে বুধবার ফের তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Suvendu Adhikari BJP TMC Bally
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy