Advertisement

নবান্ন অভিযান

বিদ্যুৎই নেই কলকাতার ১০০-র বেশি বুথে! অবিলম্বে বন্দোবস্ত করতে বলল কমিশন, স্কুলও কি চলে বিদ্যুৎ ছাড়া? উঠছে প্রশ্ন

প্রতি বুথে ভোট চলাকালীন অত্যাধুনিক ওয়েব কাস্টিংয়ের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বুথগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০২
খাস কলকাতায় অনেক বুথে বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই বলে অভিযোগ।

খাস কলকাতায় অনেক বুথে বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই বলে অভিযোগ। —ফাইল চিত্র।

খাস কলকাতার ১০০টিরও বেশি বুথে বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই। ভোটের আগে এই তথ্য জানতে পেরে অবাক নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা। প্রতিটি বুথে ভোট চলাকালীন অত্যাধুনিক ওয়েব কাস্টিংয়ের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ পরিষেবা ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বুথগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবস্থা না করা গেলে জেনারেটর রাখতে বলেছে কমিশন। কিন্তু বিদ্যুৎহীনতার কারণে কোনও বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ে যেন প্রভাব না-পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

গ্রামগঞ্জের অনেক বুথেই বিদ্যুৎ পরিষেবা থাকে না। সেখানে আলাদা করে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নির্দেশ কমিশন আগেই দিয়েছিল। কিন্তু খাস কলকাতায় যে এই পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। রাজ্যের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই রয়েছে কোনও না কোনও স্কুলে। এ ক্ষেত্রে তাই রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ রাজ্য সরকারের। তারা এই সমস্ত স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করেনি। তাই সমস্যা হচ্ছে। দক্ষিণ কলকাতায় এই কাজে যুক্ত এক আধিকারিক জানান, কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে ওই সমস্ত বুথে অস্থায়ী ভাবে বিদুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখা হবে।

সূত্রের খবর, বেশির ভাগ বিদ্যুৎহীন ভোটকেন্দ্র পাওয়া গিয়েছে কলকাতা বন্দর এলাকায়। সেখানে ৫০টিরও বেশি বুথে বিদ্যুৎ নেই। এর আগে সেখানে কী ভাবে ভোট হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। কমিশন জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া অত্যাধুনিক ওয়েব কাস্টিং সম্ভব নয়। তা ছাড়া, ভোটের দিন অনেক বুথকক্ষের জানলা এবং অতিরিক্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাতে অনেক বুথ অন্ধকার হয়ে যায়। তাই ভোটকেন্দ্রের ভি‌তরে বৈদ্যুতিক আলো থাকা প্রয়োজন। না হলে ভোটগ্রহণে সমস্যা হতে পারে। আদর্শ বুথের পরিকাঠামো কেমন হতে পারে, তা নিয়ে কমিশনের আলাদা নির্দেশিকা রয়েছে। তা মেনে চলতে বলা হয়েছে ডিইও-দের।

শুধু বিদ্যুৎ নয়, প্রতি বুথে পানীয় জল এবং শৌচালয়ের বন্দোবস্ত করতে বলেছে কমিশন। অভিযোগ, অনেক বুথেই এই পরিষেবা নেই। ডিইও-দের আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই ধরনের পরিষেবাগুলি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোটগ্রহণ রয়েছে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Election Commission Polling Stations Electricity
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy