Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘দুর্ভাগ্যজনক, সৎ ভাবে না-বলে দেশকে বিপথে চালিত করছেন প্রধানমন্ত্রী’! জাতির উদ্দেশে ভাষণকে তোপ মমতার

লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশ্যে আনা সংবিধান সংশোধনী বিল শনিবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। তা নিয়ে শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৫
(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ‘সৎ ভাবে’ ভাষণ দেননি। বরং তিনি দেশকে ভুল পথে চালিত করেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। রবিবার সমাজমাধ্যমে এমনটাই লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ-ও জানান, তৃণমূল রাজনীতিতে বরাবর মহিলাদের এগিয়ে দিয়েছে। সংসদের দুই কক্ষ এবং বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি মহিলা সদস্য রয়েছে তৃণমূলেরই। পরের বার মোদী যেন সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, পোস্টে সেই কথাও লিখেছেন মমতা।

লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শনিবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। তা নিয়ে শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরের দিন, রবিবার সমাজমাধ্যমে মমতা লেখেন, ‘‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, সৎ ভাবে বার্তা না দিয়ে দেশবাসীকে ভুল পথে চালিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে তোপ দেগে মোদী ভাষণে বলেন, “মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তৃণমূলের কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা নষ্ট করল। একই পথে হাঁটল সমাজবাদী পার্টিও।” সেই সূত্র ধরেই মমতা মনে করিয়ে দেন যে, লোকসভা, বিধানসভায় তৃণমূলের মহিলা সদস্য কত জন। তিনি লেখেন, ‘‘তৃণমূল সব সময় রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে। সংসদের দুই কক্ষ এবং বিধানসভায় নির্বাচিত মহিলা সদস্য আমাদেরই সবচেয়ে বেশি। লোকসভায় আমাদের যত জন সদস্য রয়েছেন, তার মধ্যে ৩৭.৩ শতাংশ মহিলা। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ মহিলাকে মনোনীত করেছি। মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’

Advertisement

তার পরেই মমতা লেখেন, ‘‘আমাদের আপত্তি ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) নিয়ে, যা করতে মোদী সরকার মহিলাদের ব্যবহার করছে। বাবাসাহেব অম্বেডকরের সংবিধান বদলানোর চেষ্টার আমরা বিরোধিতা করেছি। অন্যদের খরচে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করতে রাজনৈতিক রূপরেখা বদল করে, দেশকে ভাগ করে, নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস করে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার বিরোধিতা করেছি।’’ মমতার কথায়, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। নীরবে দেখব না এ সব।’’

মমতা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মহিলাদের নিয়ে সত্যিই ভাবত, তা হলে বিল কার্যকর করতে তিন বছর সময় নিল কেন? ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাশ হয়েছিল। মমতার প্রশ্ন, ‘‘যখন এতগুলি রাজ্যে ভোট, তখন কেন এই নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করা হল? কেন তার সঙ্গে জোড়া হল আসন পুনর্বিন্যাস?’’ তার পরেই মমতা লিখেছেন, বহু বছর ধরে তৃণমূল মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনেও দাঁড়াবে। কিন্তু শাসকদল যা মানে না, বা সম্মান করে না, তা নিয়ে তাদের বক্তৃতা শুনবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা লেখেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরের বার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তখন সাহস করে সংসদে দাঁড়িয়ে বলবেন। যেখানে আপনি পর্যালোচনা, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে, জবাবদিহি করতে বাধ্য। শনিবার আপনি যা করেছেন, তা ভীরুতা, ভণ্ডামি। আপনার হাত থেকে ক্ষমতা বেরিয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন। যত দূর যেতে হয়, আপনি এখন তা করতে প্রস্তুত।’’

মমতা-সহ বিরোধী নেতাদের যুক্তি, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ করা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে কেন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৪ ঘণ্টা আগে
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy