জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ‘সৎ ভাবে’ ভাষণ দেননি। বরং তিনি দেশকে ভুল পথে চালিত করেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক। রবিবার সমাজমাধ্যমে এমনটাই লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ-ও জানান, তৃণমূল রাজনীতিতে বরাবর মহিলাদের এগিয়ে দিয়েছে। সংসদের দুই কক্ষ এবং বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি মহিলা সদস্য রয়েছে তৃণমূলেরই। পরের বার মোদী যেন সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন, পোস্টে সেই কথাও লিখেছেন মমতা।
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শনিবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। তা নিয়ে শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরের দিন, রবিবার সমাজমাধ্যমে মমতা লেখেন, ‘‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, সৎ ভাবে বার্তা না দিয়ে দেশবাসীকে ভুল পথে চালিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’
পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলকে তোপ দেগে মোদী ভাষণে বলেন, “মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তৃণমূলের কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা নষ্ট করল। একই পথে হাঁটল সমাজবাদী পার্টিও।” সেই সূত্র ধরেই মমতা মনে করিয়ে দেন যে, লোকসভা, বিধানসভায় তৃণমূলের মহিলা সদস্য কত জন। তিনি লেখেন, ‘‘তৃণমূল সব সময় রাজনীতিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে। সংসদের দুই কক্ষ এবং বিধানসভায় নির্বাচিত মহিলা সদস্য আমাদেরই সবচেয়ে বেশি। লোকসভায় আমাদের যত জন সদস্য রয়েছেন, তার মধ্যে ৩৭.৩ শতাংশ মহিলা। রাজ্যসভায় আমরা ৪৬ শতাংশ মহিলাকে মনোনীত করেছি। মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করার কোনও প্রশ্নই নেই।’’
তার পরেই মমতা লেখেন, ‘‘আমাদের আপত্তি ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) নিয়ে, যা করতে মোদী সরকার মহিলাদের ব্যবহার করছে। বাবাসাহেব অম্বেডকরের সংবিধান বদলানোর চেষ্টার আমরা বিরোধিতা করেছি। অন্যদের খরচে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করতে রাজনৈতিক রূপরেখা বদল করে, দেশকে ভাগ করে, নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস করে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার বিরোধিতা করেছি।’’ মমতার কথায়, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানা হচ্ছে। নীরবে দেখব না এ সব।’’
মমতা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মহিলাদের নিয়ে সত্যিই ভাবত, তা হলে বিল কার্যকর করতে তিন বছর সময় নিল কেন? ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মহিলা সংরক্ষণ বিলটি পাশ হয়েছিল। মমতার প্রশ্ন, ‘‘যখন এতগুলি রাজ্যে ভোট, তখন কেন এই নিয়ে এত তাড়াহুড়ো করা হল? কেন তার সঙ্গে জোড়া হল আসন পুনর্বিন্যাস?’’ তার পরেই মমতা লিখেছেন, বহু বছর ধরে তৃণমূল মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনেও দাঁড়াবে। কিন্তু শাসকদল যা মানে না, বা সম্মান করে না, তা নিয়ে তাদের বক্তৃতা শুনবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতা লেখেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরের বার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তখন সাহস করে সংসদে দাঁড়িয়ে বলবেন। যেখানে আপনি পর্যালোচনা, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে, জবাবদিহি করতে বাধ্য। শনিবার আপনি যা করেছেন, তা ভীরুতা, ভণ্ডামি। আপনার হাত থেকে ক্ষমতা বেরিয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন। যত দূর যেতে হয়, আপনি এখন তা করতে প্রস্তুত।’’
মমতা-সহ বিরোধী নেতাদের যুক্তি, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ করা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে কেন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত