Advertisement

নবান্ন অভিযান

রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে বলল ট্রাইবুনাল, সময় বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রাইবুনালকে কংগ্রেস প্রার্থীর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৭

— প্রতীকী চিত্র।

অতিরিক্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মালদহের রতুয়ার কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মোত্তাকিন আলম। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রাইবুনালকে কংগ্রেস প্রার্থীর আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মালদহে প্রথম দফায়, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল ভোট। প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার। সে কারণে দুপুর ১২টার মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই পদক্ষেপ করল ট্রাইবুনাল। মোত্তাকিনের নাম ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ দিল এসআইআর ট্রাইবুনাল।

এর আগে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের নাম দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর ট্রাইবুনাল তাঁর নাম এসআইআর ভোটার তালিকায় ফেরানোর নির্দেশ দেয়। এসআইআর ট্রাইবুনালের সেটাই ছিল প্রথম রায়। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়েছিল মহতাবের। সেই কারণে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী হয়েও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে ট্রাইবুনালে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চ জানায়, কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে হবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই ভোটারদের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ শুরু করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশমতো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন। সেই তালিকায় যদি কারও নাম বাদ যায়, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বিপাকে পড়েছিলেন মহতাব। ট্রাইবুনাল গঠিত হলেও কাজ শুরু না-হওয়ায় সেখানে আবেদন করতে পারছিলেন না তিনি। তাই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশের পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ট্রাইবুনাল।

এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী মনোনীত মোত্তাকিন। এসআইআরের পরে তাঁর নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বলেছে ট্রাইবুনালকে। মোত্তাকিনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবারই।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy