Advertisement

নবান্ন অভিযান

অর্ধেকের বেশি আসনে মানুষের রায় যন্ত্রবন্দি হবে বৃহস্পতিবার! প্রথম দফার নির্বাচনে কত বুথ, কত ভোটার, বাহিনীই বা কত?

মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে। কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। প্রতি বুথে গড়ে ৮১৩ জন করে ভোটার রয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:২৯
প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার।

প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। এই পর্যায়ে ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ২০২১ সালে এই আসনগুলিতে সম্মিলিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮৮। সে বার ৮৩.২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভোট দিয়েছিলেন ৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪২ জন। তবে ২০২৬ সালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর প্রথম দফার এই ১৫২টি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ এবং মহিলা ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪৬৫ জন। এসআইআর-এ প্রথমে বিবেচনাধীন এবং পরে নাম বাদ পড়া জনতার একাংশ ভোটাধিকার ফেরানোর জন্য ট্রাইবুনালে আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ‘যোগ্য’ হিসাবে ছাড় পেয়েছেন আরও ১৩৯ জন ভোটার। তবে আগের তালিকা থেকে আট জনের নাম বাদও দিয়েছে ট্রাইবুনাল।

প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ৩৪টি আসন এবং তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত রয়েছে ১৫টি আসন। আয়তনে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি, সবচেয়ে বড় কালিম্পং। তবে ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর। সেখানে ২.৯৬ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র মুর্শিদাবাদেরই শমসেরগঞ্জ। সেখানে ভোটারের সংখ্যা ১.৬১ লক্ষ। দেড় থেকে দু’লক্ষ ভোটার রয়েছেন ১৩টি কেন্দ্রে। বাকি কেন্দ্রগুলিতে ভোটারের সংখ্যা দু’লক্ষের বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফার তালিকায় প্রবাসী ভোটার রয়েছেন ৪৩ জন। পোস্টাল ব্যালটের ভোটার (সার্ভিস ভোটার) ৬৯ হাজার ৪৬৮ জন। এ ছাড়া, প্রথম দফায় প্রতিবন্ধী ভোটারের সংখ্যা ২.৫৩ লক্ষ। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার রয়েছেন ২.০৪ লক্ষ। ১০০ বছর ও তার বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৪০২৫। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ৪.০৫ লক্ষ ভোটার প্রথম দফায় প্রথম বার ভোট দেবেন। ষাটোর্ধ্ব ভোটার রয়েছেন ৬৩.৬০ লক্ষ জন।

মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হবে। তার মধ্যে প্রধান বুথের সংখ্যা ৪১ হাজার ৪১৮। সহকারী বুথ রয়েছে ২৯৫৮টি। কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক বুথেই ভোটগ্রহণের সময় ওয়েব কাস্টিং চলবে। প্রতি বুথে গড়ে ৮১৩ জন করে ভোটার রয়েছেন। মোট ৬৪ হাজার ৪৬৬টি ভিভিপ্যাট, ৫৯ হাজার ৭৭৭টি ব্যালট ইউনিট এবং ৫৯ হাজার ৯৮০টি কন্ট্রোল ইউনিট ব্যবহৃত হবে প্রথম দফায়।

১৫২টি কেন্দ্রে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৪৭৮। তাঁদের মধ্যে মহিলা প্রার্থী ১৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ, করণদিঘি এবং ইটাহারে। এই কেন্দ্রগুলিতে ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন। সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায়। সেখানে লড়ছেন মাত্র পাঁচ জন প্রার্থী। কমিশনের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ভোটে এই ১৫২টি আসনের মধ্যে ৯২টি আসনে তৃণমূল জিতেছিল। ৫৯টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। এ ছাড়া, কালিম্পঙের একটি আসনে জিতেছিল তৃণমূল সমর্থিত ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা।

প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তবে মুর্শিদাবাদ জেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে কমিশন। এক, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলা। দুই, জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা। দুই মিলিয়ে মুর্শিদাবাদে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে ৩১৬ কোম্পানি। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলাতেই থাকবে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। বাকি ৭৬ কোম্পানি মোতায়েন হবে জঙ্গিপুরে। সবচেয়ে কম কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে কালিম্পঙে, ২১ কোম্পানি। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ মিলে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী প্রথম দফার ভোটের কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে যাবে মকপোল। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টায়, শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টায়।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
First Phase Vote Election Commission central forces
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy