নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমার পর্বে সঙ্গী ছিলেন তিনি। এ বার খড়্গপুর সদর আসনে তাঁর মনোনয়নে সঙ্গী হলেন শুভেন্দু। শনিবার শুভেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপিশাসিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও।
রোড শো চলাকালীন দিলীপকে রজনীগন্ধার মালা পরিয়ে দেন শুভেন্দু। শুভেন্দুকেও রজনীগন্ধার মালা পরান দিলীপ। তা দেখে পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দেন রেখাও। শুভেন্দু আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি দিলীপের মনোনয়ন দাখিল পর্বে উপস্থিত থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে অতীতে এই দুই বিজেপি নেতার মধ্যে সমীকরণ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এ অবস্থায় দিলীপ এবং শুভেন্দুকে পাশাপাশি দেখতে খড়্গপুরের রাস্তায় ভিড়ও হয়েছিল চোখে পড়ার মতো। দুই নেতাও নিরাশ করেননি সেই ভিড়কে। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রোড শো করেন দিলীপ এবং শুভেন্দু। রোড শোয়ের গাড়ি থেকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন দু’জনে।
রোড শো করতে করতে দিলীপের সমর্থনে ভোট চাইলেন শুভেন্দু। ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে দিলীপকে জয়ী করার ডাক দেন তিনি। খড়্গপুরের রাস্তায় রোড শো শেষ করে মহকুমা শাসকের দফতরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন দিলীপ। তাঁর এই মনোনয়ন পর্ব ঘিরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল দৃশ্যত চোখে পড়ার মতো।
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অবিভক্ত মেদিনীপুরে ৩৫ আসনের মধ্যে ৩৩টা আসনে জিতে গিয়েছি, আর দু’টো বাকি রয়েছে। তার জন্য চেষ্টা করছি। ৫০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতব।” দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখাও তোপ দাগেন মমতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে। তিনি বলেন, “রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দেশ দেখছে।”
খড়্গপুর সদরের পাশাপাশি শনিবার ডোমকল, তেহট্ট, তমলুক, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, ইসলামপুর, কালিম্পং, দার্জিলিং, মালদহ, জঙ্গিপুর, বহরমপুর-সহ বেশ কিছু জায়গায় বিজেপির দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দিলীপদের মনোনয়নে যেমন শুভেন্দু এবং রেখা উপস্থিত ছিলেন। অন্য দিকে, ময়নাগুড়ির বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়ের মনোনয়ন দাখিলের রোড শোয়ে উপস্থিত ছিলেন সুকান্ত মজুমদার। ঝাড়গ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত