দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করা-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে তৃণমূলের সমালোচনা করলেও নির্বাচন কমিশনের ‘ভূমিকা’ নিয়েও সরব হলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বিপুল সংখ্যক আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা, সাঁজোয়া গাড়ি নামানোর প্রসঙ্গ টেনে সেলিম মঙ্গলবার দাবি করেছেন, গণতন্ত্র ফেরানোর বদলে কমিশন জমানা বদলের ব্যবস্থা করছে!
কলকাতা প্রেস ক্লাব আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। সেখানেই কমিশনের ‘সক্রিয়তা’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সেলিম বলেন, ‘‘আমেরিকা ইরাকে এফ-১৬ বিমানে মিসাইল লাগিয়ে নিয়ে গিয়ে গণতন্ত্র না-ফিরিয়ে জমানা বদল করেছে। এখানে নির্বাচন কমিশনও সাঁজোয়া গাড়ি, প্যারা মিলিটারি ফোর্স নিয়ে এসে গণতন্ত্র ফেরাতে চেষ্টা করছে না। বরং গণতন্ত্রকে শেষ করে জমানা বদলের (রেজিম চেঞ্জ) ব্যবস্থা করছে।’’ সেলিম এ-ও জানিয়ে দিয়েছেন যে, বামপন্থীদের স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করে বলতে কোনও অসুবিধা হয় না। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেই নিরপেক্ষ ভোট হবে এমন নয়। বরং এতে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে।’’ তবে পাশাপাশিই তিনি বলেছেন, কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে যে কাজ করছে, পুরসভা-পঞ্চায়েত নির্বাচনে মমতার পুলিশও একই রকম বাতাবরণ তৈরি করে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, আধাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা, কাশ্মীরে ব্যবহার করা সাঁজোয়া গাড়ি ভোটের পশ্চিমবঙ্গে নামানো নিয়ে রোজই নিয়ম করে তোপ দাগছে তৃণমূল। মঙ্গলবারই তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টার পোস্ট করা হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, এক দিকে দাঁড়িয়ে আছে কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, কেন্দ্রের বিভিন্ন এজেন্সি। আর তাদের উল্টো দিকে একা এক মহিলা। যাঁর পরনে নীল পাড় সাদা শাড়ি, হাতে তৃণমূলের পতাকা। বলাই বাহুল্য, ওই মহিলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে কমিশনের বিরোধিতার প্রশ্ন তারা সেলিমকে পাশে পেল।
গত কয়েক বছর ধরেই বামেরা দাবি করে আসছে, তৃণমূল এবং বিজেপি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির মাঝে মানুষের রুটি-রুজির দাবিকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। সে কারণেই গত তিনটি বড় নির্বাচনে বামেরা আসন সংখ্যার নিরিখে শূন্য হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার সেলিম দাবি করেছেন, এ বার হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের বাইরে বেরিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের প্রসঙ্গ বেশি করে উঠে এসেছে। তৃণমূলকে বিজেপি তথা আরএসএস-এর ‘সাইড কিক’ বলে কটাক্ষ করে সেলিম বলেছেন, ‘‘সাম্প্রদায়িক লাইনে এ বারের নির্বাচন হচ্ছে না।’’ যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে চলেছে, তা নিরপেক্ষ নয় বলে দাবি করেছেন সেলিম। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই বলছি, এসআইআর প্রক্রিয়া হয়েছে অপরিকল্পিত ভাবে। জ্ঞানেশ কুমারের যা চিবোনোর ক্ষমতা, তার চেয়ে বেশি তিনি কামড়ে ফেলেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত