আবার কলকাতা পুলিশে একঝাঁক বদল। শুধু কলকাতা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশেরও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একাংশকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একসঙ্গে কলকাতা পুলিশের তিন যুগ্ম কমিশনারকে বদল করা হয়েছে। এ ছাড়াও, বেশ কয়েক জন ডিসিপি-কেও বদল করে দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি থানার আইসি, ওসি, অতিরিক্ত ওসি পদেও বদল করা হল।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন রূপেশ কুমার। এ বার ওই পদে আনা হল সোমা দাস মিত্রকে। তিনি এত দিন সিআইডি-র ডিআইজি ছিলেন। বদলে দেওয়া হয়েছে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর)-কেও। সেই পদে ছিলেন মিরাজ খালিদ। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল সুদীপ সরকারকে। তিনি ছিলেন ডিআইজি (পার্সোনাল)। আর যুগ্ম কমিশনার (ইন্টালিজেন্স) সৌম্য রায়কে সরিয়ে আনা হল দেবস্মিতা দাসকে। রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (এসটিএফ) ছিলেন তিনি।
এ ছাড়াও, কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশ মিলিয়ে মোট সাত জন ডিসি-কে বদল করে দিল কমিশন। ডিসি (ভাঙড়) সৈকত ঘোষের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মণীশ জোশীকে। কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) দীপক সরকারের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল ভিএসআর অনন্তনাগকে। ডিসি (পূর্ব), ডিসি (দক্ষিণ-পূর্ব), ডিসি (উত্তর) পদে বদল করে যথাক্রমে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশান্ত চৌধুরী, সৈকত ঘোষ এবং প্রদীপকুমার যাদবকে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রজিৎ সরকারকে। তিনি ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) পদে আনা হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস রানা মুখোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি, বদল করা হল বেলডাঙার এসডিপিও-কেও। উত্তম গড়াইয়ের জায়গা বেলডাঙার নতুন এসডিপিও করা হল আনন্দজিৎ হোড়কে। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বেলডাঙায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ। রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল।
আরও পড়ুন:
সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (সদর) পদে চন্দন ঘোষকে দায়িত্ব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের থানার ওসি, অতিরিক্ত ওসি পদে বদল করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে একসঙ্গে ৫০-এর বেশি পদে রদবদল করল কমিশন।
নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আমলা এবং আইপিএস পদে বদল করছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করেছিল কমিশন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ অনেক আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদল করা হয়েছে একাধিক জেলার জেলাশাসককেও। সেই সমস্ত পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত