রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
‘‘মমতাজির দল মোদীজিকে দেশে হারাতে পারবে না। মোদীজি জানেন। তিনি জানেন, কংগ্রেসের থেকেই তাঁর ঝুঁকি। কংগ্রেসকে জয়ী করুন। আমরা চাই, আরও এক বার দেশকে পথ দেখাক বাংলা। আমরা চাই, রাজ্যের বেকারত্ব ঘুঁচিয়ে দিক। এখানে কংগ্রেসের সরকার আনুন।’’
‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে কংগ্রেস। আমার ঘর ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি জামিনে রয়েছি। আমার লোকসভার সদস্যপদ ছিনিয়ে নিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। কখনও ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, বিহারে গেলেও ১০-১৫ দিন অন্তর মামলায় হাজিরা দিতে হয়। মমতাজির বিরুদ্ধে কটা মামলা করেছেন মোদীজি? মমতাজিকে কত ঘণ্টা জেরা করা হয়েছে? আমায় ৫৫ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে। টানা পাঁচ দিন। মমতাজির উপরে কোনও আক্রমণ হয় না। কেন? কারণ, তিনি বিজেপির সঙ্গে সরাসরি লড়াই করেন না। শুধু কংগ্রেসই নীতির ভিত্তিতে লড়াই করে। ২৪ ঘণ্টা মোদীজি কংগ্রেস, রাহুল, খড়্গেজিকে আক্রমণ করেন। শুধু ভোটের সময়ে এসে মোদীজি মমতাকে কটাক্ষ করেন। নির্বাচন শেষ হলে তিনি আর মমতাজিকে নিয়ে কিছু বলবেন না। কারণ, তিনি জানেন, ভারতে একটি শক্তিই বিজেপি, সঙ্ঘের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ওই শক্তি হল কংগ্রেস। এখানে কংগ্রেসকে মজবুত করুন। ভোট দিন। আমাদের বিধানসভায় পাঠান।’’
‘‘মহিলাদের উপরে অত্যাচারের কথা বললে মোদীজির দলের কথা বলতে হয়। ওদের সাংসদ, বিধায়কেরা মহিলাদের উপরে অত্যাচার করেন। বাংলায় আরজি করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা হয়েছে। যারা করেছে, সরকার তাদের রক্ষা করেছে। মমতাজি বিজেপির জন্য বাংলায় রাস্তা তৈরি করছে। মমতাজি সঠিক ভাবে কাজ করলে, রাজ্যের জন্য কাজ করলে, দুর্নীতি না করলে, আরজি কর নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ করলে এখানে বিজেপির (আসার) ঝুঁকি থাকত না।’’
‘‘২০২১ সালে মমতাজি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৫ লক্ষ লোককে চাকরি দেবেন। আপনারা চাকরি পেয়েছেন? কেউ রয়েছে, যাঁদের মমতাজি চাকরি দিয়েছেন। ৮৪ লক্ষ বেকার যুবক বেকার ভাতার আবেদন করেছেন। এটাই বাংলার প্রকৃত ছবি এখন। ইংরেজদের সঙ্গে লড়াইয়ে আপনারা সকলের সামনে ছিলেন। শিল্পে সকলের সামনে ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মমতাজি আপনাদের জন্য কিছু করেননি।’’
‘‘মোদীজির দুর্নীতি করেন, মমতাজিও কম যান না। তৃণমূল সারদা, রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতিতে জড়িয়েছিল। সারদাতে ১৯ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা হয়েছিল, জড়িত ছিল তৃণমূল। ওরা কয়লা দুর্নীতি করেছে। গুন্ডা কর নেয় ওরা সারা রাজ্যে। মোদীজি বাকি দেশে যে হিংসা ছড়ান, এখানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তৃণমূলের গুন্ডা তা-ই করে। আমাদের কর্মীদের মারে।’’
‘‘মোদীজি জনতার জন্য কিছু করেন না। ২-৩ জন কোটিপতির জন্য কাজ করেন। লাভ পান মোদীজি আর বিজেপির কয়েক জন নেতা। এখানে মমতাজি তা-ই করছেন। শিল্প শেষ করেছেন। কর্মসংস্থান বন্ধ। বাংলায় চাকরি পেতে গেলে তৃণমূলের কোনও নেতার আত্মীয় হতে হবে। নয়তো কাজ মিলবে না। তৃণমূলের গুন্ডাদের জন্য কাজ করেন তিনি। জনতার জন্য কিছু করেন না। এখানে আগে হিন্দুস্তান মোটরসে অ্যাম্বাসাডর গাড়ি তৈরি হত। শিল্পের কেন্দ্র ছিল। আগে বামপন্থী, তার পরে মমতাজি শেষ করেছে।’’
‘‘সকলকে মোদী বলে বেড়ান, তিনি দেশভক্ত। তাঁর প্রধান কাজ দেশ বিক্রি। গত ১০-১২ বছর ওঁর সরকার গরিবদের জন্য কিছু করেনি। যা করেছে, কোটিপতিদের জন্য করেছে। এখানে আগে পাটশিল্প ছিল। কারখানা ছিল। কারা এনেছে? কংগ্রেস?’’
‘‘আজকের বাস্তব হল, মোদী বা মমতাজি, রোজগার দিয়ে ওঁদের কিছু যায় আসে না। জনতার জন্য কাজ করেন না। মোদী নোটবন্দি করেছেন। জিএসটি কার্যকর করেছেন। দেশের ছোট কারখানা, শিল্প, সব বন্ধ করেছেন মোদী। মোদী ভারতে যা করছেন, মমতাজি তা-ই বাংলায় করছেন।’’
‘‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় হাতিয়ার হল, আদানি। নরেন্দ্র মোদী আদানিকে পুরো দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে। বিমানবন্দর, বন্দর, পরিকাঠামো, সিমেন্ট, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প— সব বিক্রি করছে। সংস্থার প্রকৃত নাম হল মোদানি। ওই সংস্থার আর্থিক নথি ট্রাম্পের হাতে। তাই মোদীকে ধরে রাখেন। সে কারণে ট্রাম্প যা চান, মোদী তাই করেন। ঝাঁপ মারতে বললে তা-ই করেন। ইজ়রায়েল যেতে বললে ২ মিনিটে পৌঁছে যান।’’
‘‘আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করেন (মোদীজি)। তা করে আমাদের কৃষি ক্ষেত্র, শক্তি ক্ষেত্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিক্রি করে দেন। দেশের সব ডেটা আমেরিকাকে দিয়ে দেন। কোনও প্রধানমন্ত্রী এ রকম করতে পারেন না চাপ ছাড়া।’’
‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দু’টি হাতিয়ার রয়েছে। একটি, এপস্টিন ফাইল। আপনারা নাম শুনেছেন। সেখানে মোদীর চরিত্র, ভাবমূর্তি ধরা পড়েছে। ট্রাম্প জানেন, যে দিন সেই ফাইল খুলবেন, সে দিন মোদীজি শেষ।’’
শ্রীরামপুরে সভা শুরু রাহুলের। তিনি বললেন, ‘‘দেশে দু’টি বিচারধারার মধ্যে লড়াই। কংগ্রেস পার্টি, সংবিধান, ঐক্য। অন্য দিকে বিজেপি, সঙ্ঘ, হিংসা, অহঙ্কার। এই দুইয়ের মধ্যে লড়াই। মোদীজি যেখানে যান, হিংসা ছড়ান। ধর্ম এবং জাতের মধ্যে লড়াই বাধিয়ে দেয়।’’
‘‘ভারত জোড়ো যাত্রা করেছিলাম। সেখানে একটাই বার্তা দিয়েছি, কংগ্রেস ভালবাসার দোকান খুলতে চায়। হিংসা নয়।’’
‘‘মোদীজিকে নিয়ন্ত্রণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিয়ে দু’-চারটে কথা বলেছিলাম। তিনি ভয়ে পালিয়েই গেলেন।’’
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার তাঁর তিনটি সভা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হুগলির শ্রীরামপুরে, তার পর কলকাতার শহিদ মিনার এবং শেষে মেটিয়াবুরুজে। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই উত্তরপাড়ায় সভা করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। শাহ বলেন, ‘‘৫ তারিখের পর তৃণমূলের খেলা শেষ।’’ শুধু তা-ই নয়, দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসন পাবে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy