Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভবানীপুর শুভেন্দুকে জেতালে বাড়ি কিনে বিধায়ক কার্যালয় গড়ে পরিষেবা দেব, জানিয়ে দিলেন পিতা শিশির অধিকারী

শুভেন্দুর পিতা শিশির অধিকারীর নজরও রয়েছে ভবানীপুরের দিকেই। কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ জানাচ্ছেন, ২৩ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনে ভোটপর্ব মিটে গেলেই তিনি ভবানীপুরের ভোটে মনোনিবেশ করবেন।

অমিত রায়

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:২৫
If the people of Bhabanipur elect his son, Suvendu Adhikari, his father Sisir Adhikari will purchase a house, establish an MLA office there, and personally provide constituent services

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য। দক্ষিণ কলকাতার ওই কেন্দ্রের দিকে শ্যেনদৃষ্টি রেখেছেন এক অশীতিপর প্রৌঢ়ও। তিনি শিশির অধিকারী। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাঁর পুত্র শুভেন্দু অধিকারী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

ভবানীপুরের পাশাপাশিই শুভেন্দু নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনা এবং জল্পনা ভবানীপুর নিয়েই। কারণ, সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ মমতা। শুভেন্দুর পিতা শিশির একদা মমতার সঙ্গেই ছিলেন। তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছেন। হয়েছেন সাংসদ। হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। কিন্তু পুত্র শুভেন্দু বিজেপি-তে যাওয়ায় তাঁকেও তৃণমূল ছাড়তে হয়েছিল। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ কমেনি।

প্রবীণ রাজনীতিক শিশির জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেই তিনি সম্পূর্ণ ভাবে ভবানীপুরের প্রচারে মনোনিবেশ করবেন। ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি লাগাতার ভবানীপুরে গিয়ে ভোট প্রচারে যোগ দেবেন। তবে শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না শিশির। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে জয়ী করলে তিনি নিজে ওই বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বাড়ি কিনে সেখানে বিধায়ক কার্যালয় গড়ে তুলবেন। তাঁর কথায়, “কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আমার কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। তবে ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করলে আমি নিজে সেখানে থেকে মানুষের পরিষেবার জন্য কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি নিজে এবং আমার পুত্র একযোগে কাজ করতে চাইব।’’

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকারী পরিবারের আরও এক সদস্য শিশিরের আরও এক পুত্র দিব্যেন্দু অধিকারী এগরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে এগরা কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন শিশির। পরে ২০০৯ সালে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। এ বার শিশিরের লক্ষ্য, ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের পাশাপাশি এগরায় দিব্যেন্দুর জয়ও নিশ্চিত করা। বস্তুত, তাঁর দাবি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই বিজেপির জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। বয়স ৮৮ হলেও প্রচারে তাঁর উদ্যম চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচার করছেন এবং ঘরোয়া বৈঠকেও যোগ দিচ্ছেন ৯০ ছুঁই-ছুঁই শিশির। তবে ভবানীপুর নিয়ে তাঁর ‘বিশেষ’ আগ্রহ স্পষ্ট।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Suvendu Adhikari Sisir Adhikari BJP TMC West Bengal Politics Bhabanipur
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy