আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য। দক্ষিণ কলকাতার ওই কেন্দ্রের দিকে শ্যেনদৃষ্টি রেখেছেন এক অশীতিপর প্রৌঢ়ও। তিনি শিশির অধিকারী। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যাঁর পুত্র শুভেন্দু অধিকারী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।
ভবানীপুরের পাশাপাশিই শুভেন্দু নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনা এবং জল্পনা ভবানীপুর নিয়েই। কারণ, সেখানে তাঁর প্রতিপক্ষ মমতা। শুভেন্দুর পিতা শিশির একদা মমতার সঙ্গেই ছিলেন। তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছেন। হয়েছেন সাংসদ। হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। কিন্তু পুত্র শুভেন্দু বিজেপি-তে যাওয়ায় তাঁকেও তৃণমূল ছাড়তে হয়েছিল। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিলেও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ কমেনি।
প্রবীণ রাজনীতিক শিশির জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেই তিনি সম্পূর্ণ ভাবে ভবানীপুরের প্রচারে মনোনিবেশ করবেন। ২৪ এপ্রিল থেকে তিনি লাগাতার ভবানীপুরে গিয়ে ভোট প্রচারে যোগ দেবেন। তবে শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না শিশির। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সাজিয়ে ফেলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে জয়ী করলে তিনি নিজে ওই বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বাড়ি কিনে সেখানে বিধায়ক কার্যালয় গড়ে তুলবেন। তাঁর কথায়, “কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আমার কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। তবে ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করলে আমি নিজে সেখানে থেকে মানুষের পরিষেবার জন্য কাজ করব।” তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি নিজে এবং আমার পুত্র একযোগে কাজ করতে চাইব।’’
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে অধিকারী পরিবারের আরও এক সদস্য শিশিরের আরও এক পুত্র দিব্যেন্দু অধিকারী এগরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে এগরা কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন শিশির। পরে ২০০৯ সালে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। এ বার শিশিরের লক্ষ্য, ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের পাশাপাশি এগরায় দিব্যেন্দুর জয়ও নিশ্চিত করা। বস্তুত, তাঁর দাবি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই বিজেপির জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। বয়স ৮৮ হলেও প্রচারে তাঁর উদ্যম চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচার করছেন এবং ঘরোয়া বৈঠকেও যোগ দিচ্ছেন ৯০ ছুঁই-ছুঁই শিশির। তবে ভবানীপুর নিয়ে তাঁর ‘বিশেষ’ আগ্রহ স্পষ্ট।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১৭:০৪
তৃণমূল নেতাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য! হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এ বার কমিশনে নালিশ শাসকদলের -
১৬:৫৯
আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়! বাতিল ভোটার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উচ্ছ্বসিত মমতা, দলের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ -
১৫:৫০
ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলেও ভোট দেওয়া যাবে! বাতিল ভোটারদের নিয়ে রায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট -
১৫:৩২
‘বদলি এই প্রথম নয়’! রাজ্যের আধিকারিক-অপসারণ নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্টও -
১৪:২০
‘মিথ্যা কথা বলার আগে ভাল করে যাচাই করুন, প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটাকে তো সম্মান করুন’! মোদীকে আক্রমণ মমতার