তৃণমূল ছাড়লেন মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক আব্দুর রজ্জাক। তাঁকে এ বার টিকিট দেয়নি দল। তা নিয়ে আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রজ্জাক। বুধবার রাতে জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান তিনি। দাবি করেন, জলঙ্গি-সহ মুর্শিদাবাদের তিনটি আসনে তৃণমূল হারছেই।
সদ্য দলত্যাগী বিধায়ক বলেন, “এই দলে সততার কোন জায়গা নেই। যারা তোলাবাজি করে টাকা দিতে পারবে তারাই প্রার্থী। মুর্শিদাবাদের তিনটি আসন— জলঙ্গি, ডোমকল, রানিনগরে এমনিতেই হারছে। বাকিটা নির্বাচনের ফলে বুঝতে পারবেন।” তৃণমূল অবশ্য রজ্জাকের দলত্যাগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, “উনি বিরোধীদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে চলছিলেন, এমন খবর দলীয় নেতৃত্বের কাছে ছিল। ওঁর দলত্যাগে দলে কোনও প্রভাব পড়বে না।” প্রায় একই সুরে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “২০২১ সালের ভোটের আগে দলের অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। ভোটের পর উল্টো দিকে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। ভোটের ফলাফলের পর দেখা যাক ওঁর অবস্থান কী হয়।”
সম্প্রতি জলঙ্গিতে সভা করে নাম না-করে রজ্জাককে তোপ দেখেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “তৃণমূল করে কেউ দুর্নীতি করবে, আর তাকেই দল টিকিট দেবে, এমনটা হতে পারে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভের আগুন তীব্র হয় রজ্জাক শিবিরে। দলের নির্বাচনী কমিটিতেও জায়গা না-পেয়ে রজ্জাক সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক এবং নেতাদের একাংশের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন।
সাংবাদিক বৈঠকে দলত্যাগী রজ্জাক প্রার্থী হতে না-পারার জন্য রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেনকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ডোমকল মহকুমায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে জলঙ্গি এবং ডোমকলে বহিরাগত প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন সৌমিক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৌমিক পাল্টা বলেন, “টিকিট দেওয়ার আমি কেউ নই, উনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই রকম কথা বলছেন।”
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি রজ্জাক। তবে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন এই যে, তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। জলঙ্গিতে তৃণমূল এ বার প্রার্থী করেছে বাবর আলিকে। বামেরা প্রার্থী করেছে এই কেন্দ্রেরই প্রাক্তন বিধায়ক ইউনূস আলি সরকারকে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী নবকুমার সরকার। কংগ্রেস দাঁড় করিয়েছে আব্দুর রজ্জাক মোল্লাকে। তৃণমূল প্রার্থী বহিরাগত, এমন অভিযোগ তুলে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বিদায়ী বিধায়কের দলত্যাগ জলঙ্গিতে তৃণমূলকে চাপে ফেলল বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত