Advertisement

নবান্ন অভিযান

পাকা কথা হয়ে গিয়েছিল নিউ টাউনের হোটেলে! দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন লিয়েন্ডার পেজ়

গত সপ্তাহে কলকাতার নিউ টাউনের এক হোটেলে গিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রাক্তন টেনিস তারকা। সূত্রের খবর, সেখানে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৬
(বাঁ দিক থেকে) সুকান্ত মজুমদার, লিয়েন্ডার পেজ় এবং কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে।

(বাঁ দিক থেকে) সুকান্ত মজুমদার, লিয়েন্ডার পেজ় এবং কিরেন রিজিজু। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে। — নিজস্ব চিত্র।

বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছিল আগেই। এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ়। মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি। তাঁর যোগদান পর্বে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের তরফে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও।

লিয়েন্ডারকে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাগত জানানোর সময় পশ্চিমবঙ্গের পদ্মশিবিরের প্রতিনিধিত্ব করেন সুকান্তই। প্রাক্তন টেনিস তারকাকে বাঁ পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “লিয়েন্ডার পেজ় পশ্চিমবঙ্গেরই ছেলে। তাঁকে আমি বিজেপিতে স্বাগত জানাই। বিজেপির জন্য এটি একটি বিরাট বড় মুহূর্ত।”

সুকান্তের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতির সঙ্গে লিয়েন্ডারের নাম গভীর ভাবে জড়িত। তিনি বলেন, “তাঁর (লিয়েন্ডারের) মা কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের উত্তরসূরি। লিয়েন্ডার পশ্চিমবঙ্গের এমন এক জন প্রতিভা, যিনি লন টেনিসে কৃতিত্ব রেখেছেন। দেশের যুবক-যুবতীদের এই খেলায় আসার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন। লিয়েন্ডারের ছবি, খেলার ভিডিয়ো, তাঁর ম্যাচ দেখে বাঙালি যুব সমাজ বড় হয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে আমার মনে হয়।”

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডারের এই যোগদান বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার শক্তি অনেকটা বৃদ্ধি করল বলেই মনে করছেন সুকান্ত। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির কথায়, “আগামী নির্বাচনে লিয়েন্ডার পেজ় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর সাহায্য আমরা ভোটের ময়দানেও পাব। হাওয়া যে বিজেপির পালে লাগছে, তারই একটি নিদর্শন হল এই যোগদান।”

বিজেপিতে যোগদানের পরে লিয়েন্ডার বলেন, “আজ আমার জীবনের একটি বড় দিন। বিজেপি আমাকে সুযোগ দিয়েছে। দেশ এবং দেশবাসীর সেবা করার জন্য এটি আমার কাছে একটি বড় সুযোগ। ৪০ বছর ধরে আমি দেশের হয়ে খেলেছি। এখন এই নতুন খেলায় আমি সুযোগ পেয়েছি।” প্রাক্তন টেনিস তারকা আরও বলেন, “আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন ওখানে টেনিসের এত পরিকাঠামো ছিল না। আজও দেশে কোনও ইনডোর টেনিস কোর্ট নেই। এখন আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভাল হয়েছে। তবে ক্রীড়া এবং ক্রীড়া প্রশিক্ষণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।”

লিয়েন্ডার যে বিজেপিতে যোগ দেবেন, তা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল আগেই। এক সপ্তাহ আগেই কলকাতায় নিউ টাউনের হোটেলে পাকা কথা হয়ে গিয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রায় আট মাস আগে দিল্লিতে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল তাঁর। প্রাক্তন টেনিস তারকার বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায় গত সপ্তাহের মঙ্গলবারই। ওই দিন রাতে হঠাৎই কলকাতার নিউ টাউনের এক হোটেলে গিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রাক্তন টেনিস তারকা। সূত্রের খবর, ওই সাক্ষাৎ-পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও।

নিউ টাউনের হোটেলে সাক্ষাৎ-পর্বে যে পাকাকথা হয়েছিল, এক সপ্তাহ পেরিয়ে তারই চূড়ান্ত পরিণতি হল দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগদানের মাধ্যমে। অবশ্য রাজনীতির আঙিনায় লিয়েন্ডার নতুন নন। ২০২২ সালে গোয়ায় বিধানসভা ভোট ছিল। তার আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে গোয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে তৃণমূলের হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে সে ভাবে দেখা যায়নি প্রাক্তন টেনিস তারকাকে।

মঙ্গলবার তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে খোঁচা দিয়েছে তৃণমূলও। সমাজমাধ্যমে রাজ্যের শাসকদল লিখেছে, “লিয়েন্ডার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। অভিনন্দন (বিজেপি) আপনারা শেষ পর্যন্ত গোয়ার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে খুঁজে পেলেন। পশ্চিমবঙ্গে আরও এক বহিরাগতকে নিয়ে এল বিজেপি।”

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
BJP Leander Paes West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy