অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘আমরা বলেছি, যত ক্ষণ চাকরি না পাবেন, ভাতা দেব। বিজেপি বলছে চাকরিও দেবে। ভাতাও দেবে! ওরা ভাবছে মানুষ বোকা। আপনারাই লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথীকে গালাগাল দিয়েছিলেন।’’
‘‘ঘাটাল নিয়ে ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। শাহ এ সব দেখেন। ১৫০০ কোটি টাকা খরচের কথা ছিল। আমি দেবের হয়ে প্রচারে গিয়ে বলেছিলাম, দয়ার অপেক্ষায় থাকব না। ২০২৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে পদক্ষেপ করা হয়েছে।’’
‘‘নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য মানুষকে অত্যাচার করেছে। এরা ভেবেছিল জোর করে বাংলা দখল করা যায়। অন্য রাজ্যের সঙ্গে এখানেই তফাত। তারা হয়তো লড়াই করেনি। বাংলা বিপ্লবীদের পীঠস্থান। স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এলে বিজেপি কারও ভোটাধিকার কাড়তে পারবে না।’’
‘‘প্রতিফল ভোটবাক্সে আগামী দিনে পড়বে। মানুষের শক্তির কাছে সবাইকে পরাজিত হতে হবে।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘খুব আশ্চর্য, হুমায়ুন বলছেন ভিডিয়ো এআই দ্বারা তৈরি। শুভেন্দু অধিকারীও তা-ই বলছেন। ঠাকুর ঘরে কে, আমি কলা খাইনি।’’
‘‘বিজেপি গত ৬ মাস ধরে যা করেছে এসআইআরের নামে, ওদের আরও ২০ বছর বিরোধীর আসনে বসতেই হবে।’’
‘‘মাথার ছাদ বন্ধ করছেন। রাস্তা বন্ধ করছেন। আপনারা লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী দেবেন? মানুষের ভাল চাইলে আপনি বলুন, ভোটে যাই ফল হোক, বাংলার প্রত্যেক যুবক-যবতীকে ৩০০০ টাকা দেবেন। যা বলেছি, ক্ষমা চেয়ে নেব।’’
‘‘যে শপথ দিয়েছে, একটাও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। কালো টাকা ধ্বংস হয়েছে? জিএসটি করে দেশের অর্থনীতি রসাতলে পাঠিয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার যারা কেড়ে নেয়, তাদের নিয়ে কিছু বলার নেই।’’
‘‘বিশেষ বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা হবে! এখানে মানুষ নিজের ধর্মাচরণ পারেন না? না পারলে অমিত শাহ দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে আসেন কী ভাবে? উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপাতে চাইছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্গাপুজো বন্ধ করে ৯ দিন ধরে রামনবমী করবে। অস্ত্রের ঝনঝনানি। স্বীকার করেছে দিল্লি থেকে চলবে। ১২ বছর আপনি ক্ষমতায়। নিজের শ্বেতপত্র তুলে ধরুন।’’
‘‘আমরা আয়ুষ্মান ভারত করতে দিইনি। করলে ১০ কোটি মানুষের বদলে ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ মানুষ পাবেন। পাকা বাড়ি, দু’টাকা থাকলে এই সুবিধা পায় না। স্বাস্থ্যসাথীর কোনও শর্ত নেই। সকলে পান। বাড়িতে পাকা দেওয়াল থাকলে পরিষেবা পাবেন না।’’
‘‘আয়ুষ্মান ভারতের দুর্নীতি আপনারা দেখেছেন। এমন লোকের পেমেন্ট হয়েছে, যারা ৭-৮ বছর আগে মারা গিয়েছেন।’’
ছবি তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ‘‘সবচেয়ে বড় কয়লা মাফিয়া শাহকে ফুল দিচ্ছেন। জয়দেব খাঁ। ক’বার তাঁকে ইডি, সিবিআই ডেকেছে? শাহকে বিমান থেকে নামার পরে স্বাগত জানাচ্ছেন কে? জয়দেহ খাঁ। বাংলার মানুষকে যারা বোকা বানাতে এসেছে, তৈরি থাকুন।’’
‘‘ওরা বলেছে, ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিলে কুড়মালি, রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হল। কত জাল! এখানে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নেই। ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের তরফে তৎকালীন মুখ্যসচিব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি কুড়মালি এবং রাজবংশী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি দেন। বিজেপি এখনও করেনি। দ্বিচারিতা!’’
‘‘চা বাগান নিয়ে বলেছে। অসমে এক দশক ধরে ক্ষমতায়। কটা খুলেছে সেখানে। ২০২১ সালের ভোটের আগে নির্মলা বলেছিলেন, ১০০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দেবে বাংলার চা বাগানের জন্য। এক পয়সা দিয়েছেন?’’
‘‘২০১১ সালে চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৬৭ টাকা। আজ বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা হয়েছে। চা সুন্দরী প্রকল্পে শ্রমিকদের শিশুদের ক্রেসে রাখার ব্যবস্থা, ঘর তৈরি করেছে। কেন্দ্র চা শ্রমিকদের পিএফের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দার্জিলিং টি অলরেডি বিশ্বজনীন। শাহ দিল্লিতে কী চা খান? বলবেন, দার্জিলিঙের। নিজেদের দাবি করেছিলেন চা-ওয়ালা, চা বিক্রি করে প্রধানমন্ত্রী, চ্যালেঞ্জ, দেখান, একটা চা বাগান খুলতে বিজেপির কোনও নেতা সদর্থক ভূমিকা নিয়েছে, যা শাস্তি দেবেন, মাথা পেতে নেব।’’
‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তফসিলি জনজাতি (এসটি)-রা। জোর করে চাপিয়ে দিয়ে পরিবর্তন আনতে চায়। বিজেপি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় না। যদি চাইত, ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা থাকত না। আবাস যোজনায় ৫ বছরে এক পয়সাও যদি দেয়, রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’
‘‘মৎস্যজীবীদের সাহায্যের কথা বলেছেন। যারা মাছ খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাছ খেলে মোগল, খাদ্যাভাস নিয়ে বিদ্রুপ করে, তারা মৎস্যজীবীদের সাহায্য করবে? রাজ্য সরকার সমুদ্রসাথী করে সাহায্য করেছে। এরা বাংলার রাজনীতি দেখে না। দেখে শুধু ইডি, সিবিআই, ইসিআই।’’
‘‘কৃষকদের জন্য আপনারা বলেছেন ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিত করা হবে। ২০২৩ সালে কৃষক বিরোধী নীতির কারণে ১০ হাজার কৃষক মারা গিয়েছেন গোটা দেশে। ৭০০ জন আত্মহত্যা করেছেন। আলুচাষীদের বন্ধু বলেন। ভারতীয় রেলের উদ্যোগে বলেছিলেন মালগাড়ি চালানো হবে যাতে কৃষকেরা আলু পাঠাতে পারেন।’’
‘‘বাংলায় হেরে গিয়েছেন, তার পরে ২০২১ সালের ৯ জুলাই থেকে মালগাড়ি বন্ধ। ২টো মালগাড়ি গিয়েছিল— আরামবাগ, তারকেশ্বর থেকে। সারের দাম ছিল ১৩০০ টাকা। এ বছর ১৮০০ টাকা হয়েছে। এগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে? একটা বস্তার দাম ৯ টাকা। ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাহায্য করতে চাইলে এত দাম কেন? কেন এত আত্মহত্যা করেন কৃষকেরা? এমএসপি সুনিশ্চিত করেননি কেন?’’
‘‘বিজেপির প্রতিশ্রুতি হচ্ছে চিটফান্ডের মতো। এদের প্রতিশ্রুতির দাম নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। ১,৫০০ টাকা দিয়েছে মমতার সরকার। বলছে ভিক্ষা।’’
‘‘এজেন্সি দিয়ে হয়নি, এখন অর্থের বিনিময়ে বাংলার মায়েদের সম্ভ্রম কিনতে এসেছেন? তাদের মর্যাদা, সম্মান কী মনে করেন, ৩০০০ টাকায় বিক্রি করবে? আপনি দিন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো মানেন না। ইডি, সিবিআই তল্লাশি করতে এলে রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে আসে না। ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলাকে দিতে চাইলে টাকা, সরাসরি দিন রাজ্য সরকারকে বাইপাস করে। কেউ বারণ করছে না। এসআইআর, ইডি, সিবিআই নিজের ইচ্ছায় করেন। মানুষকে পরিষেবা দিতে গিয়ে আটকে যান কেন?’’
‘‘মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাসে ৩০০০ টাকা দেবে। নতুন জুমলা।’’ এর পরে অভিষেক একটি ভিডিয়ো দেখান, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ভাষণ দিতে শোনা যায়। সেখানে মোদী বলছেন, ৮ মার্চের মধ্যে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা প্রবেশ করবে।
অভিষেক বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালে দিল্লি ভোটের আগে এই কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ২৫০০ টাকা যাবে। আজও এক জন মহিলা টাকা পাননি। আমি বলছি না, মোদীর প্রতিশ্রুতি! যেখানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়িত করুন। মহারাষ্ট্রে সার্ভে করার নামে ৯০ হাজার মহিলাকে সুবিধা থেকে বাদ দিয়েছেন। বাংলার সরকার পরিবারের সব মহিলাকে টাকা দেন। কোনও প্রশ্ন, শর্ত ছাড়া টাকা দেয়। একটা রাজ্যে করে দেখান। দিল্লিতে পরিশুদ্ধ বায়ুই দিতে পারে না। তারা দেবে ৩০০০ টাকা?’’
‘‘মহিলাদের সুরক্ষার জন্য থাকবে বিশেষ মহিলা পুলিশ ব্যাটেলিয়ন। দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড। যাদের দলের নেতা, সাংসদেরা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ইডি, সিবিআই তল্লাশি করায়, তাঁরা করবে এসব? আপনাদের সরকার কলকাতার সব পুজো কমিটির বিরুদ্ধে আয়কর নোটিস দিয়েছেন।’’
‘‘১২ বছর াগে মোদী কোচবিহারে এসে বলেছিলেন নারায়ণী স্কোয়াড হবে। হয়েছে?’’
‘‘তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে। কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাসে ৩০০০ টাকা দেবে। মোদী ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি হবে। ১২ বছর তিনি ক্ষমতায় ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। গড়ে প্রতি বিধানসভায় ৫৮ হাজার জনের নতুন চাকরি হওয়া উচিত। বাংলা জুড়ে শাহ ৫০০০ লোক দেখান, যাকে মোদী সরকার চাকরি দিয়েছে গত ১২ বছরে।’’
‘‘একই জিনিস দিল্লিতেও বলে। অসমে সরকার রয়েছে। ত্রিপুর, বিহারে দিন। একাধিক রাজ্যএ এনডিএ সরকার। করে দেখান।’’
‘‘কাটমানি নিয়ে বলেছেন, সপ্তম বেতন কমিশন চালু করবেন বলেছেন। বাংলার বাজেট পড়েননি? ১৯৬৯ সালে পে কমিশন বাস্তবায়িত হয়। তখন ছিল পে কমিটি। বাংলায় সপ্তম পে কমিশনের কথা বাজেটে ঘোষণা করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’
‘‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত আপনার পাশে বসে রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে ৫-৬টি করে মামলা। যাদের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রমাণ রয়েছে, তাঁদের নিয়ে লড়াই করবেন? শুভেন্দু, প্রেমা খাণ্ডু, হিমন্ত, নারায়ণ রানেকে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই? লোক হাসানো!’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy