E-Paper

ঘড়ি ধরে না পড়ে মাধ্যমিকের শীর্ষে

যখন ইচ্ছে পড়েই এ বার মাধ্যমিকে সেরার তালিকায় তারা জায়গা করে নিয়েছে, দাবি একাধিক কৃতীর। অধিকাংশেরই ইচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৬:০৬

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ঘড়ি ধরে পড়ার অভ্যাস নেই। যখন ইচ্ছে পড়েই এ বার মাধ্যমিকে সেরার তালিকায় তারা জায়গা করে নিয়েছে, দাবি একাধিক কৃতীর। অধিকাংশেরই ইচ্ছে, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার।

মাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির হাই স্কুলের (বাংলা মাধ্যম) ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। পেয়েছে ৬৯৮। সফ‌্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সে। অভিরূপের বাবা, পেশায় ঠিকাদার নীলাঞ্জন বছর ছয়েক আগে মারা যান। মা ইন্দ্রাণী রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্স। অভিরূপ ইংরেজিতে ৯৮ পেয়েছে। বাকি সব বিষয়ে ১০০। সব বিষয়েরগৃহশিক্ষক ছিল অভিরূপের। অবসরে সিনেমা দেখতে ভালবাসে। অভিরূপ বলে, ‘‘যখন ইচ্ছা পড়েছি। ঘড়ি ধরে পড়িনি। ভাল ফল হবে জানতাম।তবে প্রথম হব ভাবিনি।’’ আর ইন্দ্রাণীর কথায়, ‘‘স্বামীর মৃত্যুর পরেঅনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছেলেকে পড়িয়েছি। ও বেশিরভাগ সময় বাড়িতে একা থাকত। পরিশ্রম সফল হল।’’ ওই কৃতীর স্কুলের প্রধান আচার্য চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাজ্যে প্রথম হয়ে অভিরূপ স্কুলের মুখউজ্জ্বল করল।”

বীরভূমের সিউড়ির ডাঙালপাড়ার প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায় ৬৯৬ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় দ্বিতীয়। সিউড়ির সরোজিনীদেবী সরস্বতী শিশু মন্দিরের ছাত্র প্রিয়তোষ বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ৯৯, অঙ্কে ৯৯, ইতিহাসে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ৯৯, ভৌত বিজ্ঞান ও ভূগোলে ১০০ পেয়েছে। তার বাবা আশুতোষ মুখোপাধ্যায় পাঁচড়া হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের শিক্ষক। মা সোমা গিরি মুখোপাধ্যায়ও সরকারি হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা। ছ’জন গৃহশিক্ষক ছিল প্রিয়তোষের। কৃতী এই ছাত্র ঘড়ি ধরে পড়ত না বলেই দাবি। ক্লান্তি কাটাতে তার সঙ্গী অরিজিৎ সিংহের গান আর গল্পের বই। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া লক্ষ্য তার।

৬৯৫ পেয়ে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থানে তিন ছাত্র। তাদের অন্যতম বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজিয়েট স্কুলের মৈনাক মণ্ডলও ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারই হতে চায়। সে-ও জানিয়েছে, বাঁধাধরা সময়ে পড়াশোনার অভ্যাস ছিল না। প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা ছাড়া, বাকি সব বিষয়ে মৈনাক ১০০ পেয়েছে। প্রিয় বিষয় অঙ্ক। তার বাবা, বই ব্যবসায়ী শিশির মণ্ডল, মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী অর্চনা মণ্ডল জানান, ছেলের মোবাইলে আসক্তি নেই।

মেদিনীপুর শহরের বেড়বল্লভপুরের বাসিন্দা সৌর জানা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে তৃতীয় হয়েছে। তার বাবা সুভাষ জানা শালবনির কলাইমুড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মা অন্তরা বসু জানা গোয়ালতোড় গার্লস হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে চায় সৌর। ভালবাসে নাটক।

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার রামকৃষ্ণ শিক্ষামন্দিরের ছাত্র অঙ্কনকুমার জানাও মাধ্যমিকে তৃতীয় হয়েছে। তার বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের জাহালদায়। বাবা বুদ্ধদেব জানা শিক্ষক। মা সমাপ্তি জানা গৃহকর্ত্রী। অঙ্কনওইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Students

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy