Advertisement

নবান্ন অভিযান

নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন সিইও মনোজ! ছবি প্রকাশ করে দাবি তৃণমূলের, পাল্টা ‘ভগবান’ তত্ত্ব শোনাল পদ্মশিবির

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে নিযুক্ত একাধিক সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক, সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিজেপি-যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল তৃণমূল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ক্ষেত্রে পদক্ষেপও করেছে নির্বাচন কমিশন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৯
Local BJP leader was with CEO Manoj Agarwal in Nandigram, TMC claimed by showing photo

(বাঁ দিকে) মনোজ আগরওয়াল, নন্দীগ্রামের স্থানীয় বিজেপি নেতা (ডান দিকের চিহ্নিত করা অংশে )। ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।

ভোটের পশ্চিমবাংলায় জেলা সফরের শুরুতেই গত শনিবার নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেই পর্বে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছিলেন। কথা বলেছিলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। মঙ্গলবার ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করল, স্থানীয় এক বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন মনোজ।

তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ছবি প্রকাশ করে ফের মনোজের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের দাবি, ছবিতে মনোজের পাশে লাল গোল করে চিহ্নিত করা অংশে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম তপনকুমার মহাপাত্র। শাসকদলের এ-ও দাবি, এই তপন নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলের বিজেপির আহ্বায়ক। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কুণালের দাবি, ‘‘একজন সিইও বিজেপির ক্যাডারকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন দলদাসত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।’’ কেন সিইও শুরুতে নন্দীগ্রামেই গেলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে তৃণমূল।

বিজেপি অবশ্য মনোজের পাশে তপনের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেনি। বরং ‘ভগবান’ তত্ত্বের কথা বলেছে পদ্মশিবির। নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল বলেন, ‘‘এই প্রথম এক জন সিইও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ভগবান হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ থাকে। সেই ব্যক্তি পরিচয় থেকেই কেউ যদি ভগবানকে দেখতে যান, তাতে কার কী বলার আছে?’’ বিজেপি বোঝাতে চেয়েছে, দলীয় পরিচয় থাকলেও তপন আসলে গিয়েছিলেন ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে। মনোজের ভূমিকায় আপ্লুত হয়ে তাঁকে দেখতে।

এর আগেও পশ্চিমবঙ্গে নিযুক্ত একাধিক সাধারণ পর্যবেক্ষক, পুলিশ পর্যবেক্ষক, সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিজেপি-যোগের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল তৃণমূল। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ক্ষেত্রে পদক্ষেপও করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার কুণাল বলেন, ‘‘প্রতিটি দলের যেমন তারকা প্রচারকের তালিকা থাকে, তেমনই কমিশনও তাদের তারকা প্রচারকের তালিকা প্রকাশ করুক। বলে দিক, এঁরা এঁরা বিজেপির হয়ে প্রচারের কাজ করবেন কমিশনের জার্সি পরে। মুখোশটা খুলে ফেলুক।’’ পাশাপাশিই তৃণমূলের এ-ও বক্তব্য, এখনও লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ। মানুষকে বিপন্ন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সিইও-কে জেলায় জেলায় ট্রাইবুনালের লাইনে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে— এই দাবিও তুলেছে তৃণমূল।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Manoj Agarwal Election Commissioner BJP Leader Nandigram TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy