নির্বাচন কমিশনের একটি ছ’বছরের পুরনো নথি সোমবার প্রকাশ্যে এনেছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যাতে পদ্মফুল চিহ্ন-সহ বিজেপির নাম লেখা সিল ব্যবহার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারে উত্তরবঙ্গ রওনা হওয়ার আগে সেই নথি নিয়েই কমিশনকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
হাতে ওই কাগজের প্রতিলিপি নিয়ে মমতা বলেন, ‘‘কমিশনের কাগজে বিজেপি পার্টির স্ট্যাম্প। বিজেপির চিহ্ন। পিছন থেকে খেলছেন কেন? সামনে এসে খেলুন।’’ ছ’বছর আগের ওই ঘটনাকে ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেক’ বলে সাফাই দিয়েছে কমিশন। সেই প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘‘এটা ক্লারিক্যাল মিস্টেক, না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?’’ মঙ্গলবার মমতা বলার আগে সকালে এ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে কমিশনকে নিশানা করেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার বেশি রাতে কেন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘‘তালিকা বার করতে এত ভয় কেন? তা হলে কি তালিকায় স্বচ্ছতা নেই? কেন মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা হল? বিচারকেরা তো ছ’দিন আগে কাজ শেষ করে দিয়েছিলেন। তার পরেও দেরি কেন? একতরফা কোনও পার্টির নাম ঢুকিয়েছেন?’’
বিধানসভা ভোটের প্রচারের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হন মমতা। বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ফের তিনি সরকারি আমলা ও আধিকারিকদের বদলি করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করেন, গত কালও অনৈতিক ভাবে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর এ-ও অভিযোগ, নন্দীগ্রামের বিডিও-কে ভবানীপুরে নিয়ে আসা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বাম-ডান ভুলে যান। যাঁরা এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে, তাঁরা সবাই একজোট হোন। আমার পাশে থাকার দরকার নেই। মানুষের পাশে থাকুন।’’ মমতার এ হেন আহ্বান নিয়ে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘উনিই তো বিজেপি-কে পশ্চিমবাংলার রাস্তা দেখিয়েছিলেন। এটা ঠিক যে, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একজোট হওয়া প্রয়োজন। তেমনই প্রয়োজন রাজ্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তাই আমাদের লড়াই বিজেপি-তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই।’’
মমতা মঙ্গলবার ফের একবার স্মরণ করিয়ে দেন এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তাঁর সওয়ালের প্রসঙ্গ। বলেন, ‘‘মনে রাখবেন, যেটুকু নাম উঠেছে, সেটাও আমার কোর্টে মামলা করার জন্য।’’ সেই সঙ্গে কমিশন ও বিজেপি-কে এক বন্ধনীতে ফেলে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘এই এসআইআর-ই ওদের শেষ করবে।’’ সোমবার মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশের পরে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কেন বুথে বুথে তালিকা টাঙানো হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলনেত্রী।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
১৯:১৭
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা -
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত