এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী মুর্শিদাবাদের মোস্তারি বানু দাবি করলেন, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে শীর্ষ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে তিনি এবং তাঁর দল সিপিএম জয়ী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ‘ব্রাত্য’।
মোস্তারি এলাকায় সক্রিয় সিপিএম কর্মী। তাঁর স্বামী কামাল হোসেন সিপিএমের পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের নেতা। সুপ্রিম কোর্টে প্রথম এসআইআর-হয়রানি সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন ভগবানগোলার বধূ মোস্তারি, দাবি সিপিএমের। হাতে রায়ের কপি নিয়ে একটি ভিডিয়ো বার্তায় শুক্রবার মোস্তারি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন এই জয় ওঁর। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপিতে কোথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। সেখানে লেখা আছে মোস্তারি বানু বনাম নির্বাচন কমিশন। উনি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছেন।’’ তিনি আরও জানান যে, আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর দল সিপিআইএম তাঁকে সব রকম সাহায্য করেছে এবং শুনানির সময় তিনি নিজেও সশরীরে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন।
সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল নেত্রী অন্যের পরিশ্রমের ফসল নিজের ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। মোস্তারির কথায়, ‘‘এই জয় মোস্তারি বানুর জয়, এই জয় সিপিআইএমের জয়।’’ দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জয় এলেও কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। মোস্তারি মনে করেন, এই রায় আরও আগে এলে সাধারণ মানুষ ও ভোটারেরা অনেক বেশি উপকৃত হতেন।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, ভোট গ্রহণের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে সকল বিবেচনাধীন ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি করে নাম তোলায় ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। সু্প্রিম কোর্ট জানায়, এ ক্ষেত্রে তারা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করেছে। ওই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টকে ন্যায় নিশ্চিত করতে যে কোনও নির্দেশ জারির ‘সম্পূর্ণ ক্ষমতা’ দেওয়া হয়েছে।
এই রায় ঘোষণার পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনিই এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাই এই রায়ের পরে তাঁর চেয়ে খুশি আর কেউ নন। বলেন, ‘‘সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২৩:২২
তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগ! রাজ্যের পাঁচ বিএলও-কে সাসপেন্ড করল কমিশন, তিন জনের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ -
২২:৪৮
‘প্রচার রুখতেই নজরবন্দি করা হচ্ছে’! দেবাশিস-সহ নানা তৃণমূল নেতার বাড়িতে আয়কর হানা নিয়ে কী কী বললেন মমতা -
২০:৩১
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, আমি এত উদার নই’! তারিখ দিয়ে ‘অত্যাচারের হিসাব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের -
১৯:৩৩
পাহাড়ের জনতাকে ভোটমুখী করতে ‘হাতিয়ার’ টয় ট্রেন, দার্জিলিঙে যাত্রা শুরু করল ‘ডেমোক্রেসি এক্সপ্রেস’! -
১৮:১০
টিকিট না-পাওয়া রবীন্দ্রনাথকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে সভায় মমতা, অভিমান ভুলে লড়াইয়ের বার্তা প্রাক্তন মন্ত্রীর গলায়