Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘এই জয় আমার, জয় সিপিএমের’! বাতিল ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে দাবি মোস্তারির

মোস্তারি জানান যে, আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর দল সিপিআইএম তাঁকে সব রকম সাহায্য করেছে এবং শুনানির সময় তিনি নিজেও সশরীরে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪২
মোস্তারি বানু।

মোস্তারি বানু। — নিজস্ব চিত্র।

এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী মুর্শিদাবাদের মোস্তারি বানু দাবি করলেন, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে শীর্ষ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে তিনি এবং তাঁর দল সিপিএম জয়ী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে ‘ব্রাত্য’।

মোস্তারি এলাকায় সক্রিয় সিপিএম কর্মী। তাঁর স্বামী কামাল হোসেন সিপিএমের পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের নেতা। সুপ্রিম কোর্টে প্রথম এসআইআর-হয়রানি সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন ভগবানগোলার বধূ মোস্তারি, দাবি সিপিএমের। হাতে রায়ের কপি নিয়ে একটি ভিডিয়ো বার্তায় শুক্রবার মোস্তারি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন এই জয় ওঁর। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কপিতে কোথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। সেখানে লেখা আছে মোস্তারি বানু বনাম নির্বাচন কমিশন। উনি সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলছেন।’’ তিনি আরও জানান যে, আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর দল সিপিআইএম তাঁকে সব রকম সাহায্য করেছে এবং শুনানির সময় তিনি নিজেও সশরীরে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন।

সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল নেত্রী অন্যের পরিশ্রমের ফসল নিজের ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। মোস্তারির কথায়, ‘‘এই জয় মোস্তারি বানুর জয়, এই জয় সিপিআইএমের জয়।’’ দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে জয় এলেও কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। মোস্তারি মনে করেন, এই রায় আরও আগে এলে সাধারণ মানুষ ও ভোটারেরা অনেক বেশি উপকৃত হতেন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, ভোট গ্রহণের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে সকল বিবেচনাধীন ভোটারের আবেদন নিষ্পত্তি করে নাম তোলায় ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। সু্প্রিম কোর্ট জানায়, এ ক্ষেত্রে তারা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করেছে। ওই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টকে ন্যায় নিশ্চিত করতে যে কোনও নির্দেশ জারির ‘সম্পূর্ণ ক্ষমতা’ দেওয়া হয়েছে।

এই রায় ঘোষণার পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনিই এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাই এই রায়ের পরে তাঁর চেয়ে খুশি আর কেউ নন। বলেন, ‘‘সকলকে অভিনন্দন। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে উঠেই আমি সুখবরটা পেলাম। প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, সকলে ধৈর্য ধরুন। আমি খুব খুশি। বিচারব্যবস্থার জন্য গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম। তাই আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নয়।’’

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy