Advertisement

নবান্ন অভিযান

গড়িয়াহাট থেকে হলদিয়া, ভোটশেষে ভাঙচুর-অশান্তি, ভাঙড়ে বোমাবাজি! বেহালা, ভাটপাড়াতেও ফের উত্তেজনা

কলকাতা পুরসভার ১২৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণপল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস-সহ তিন তৃণমূল কর্মী। তাঁদের এক জনের অবস্থা গুরুতর বলে অভিযোগ উঠেছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২২:১৭
ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ।

ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ। —নিজস্ব চিত্র।

দু’দফার ভোট নির্বিঘ্নে মিটেছে। কিন্তু তার পর রাজ্যের নানা জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছে। কলকাতা থেকে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনার মতো নানা জায়গায় মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, যৌথবাহিনী অত্যাচার করছে। কয়েকটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটে ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডে কংগ্রেসের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত তৃণমূল। কংগ্রেসের অভিযোগ, ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলার পরে ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীর হাতের প্রতীক-সহ ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। ১৭সি ফর্মও খোয়া গিয়েছে।

আমরা নিষ্ক্রিয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং প্রশাসনকে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানিয়েছি, যাতে সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হয়।

উল্টো দিকে, দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়ার চিরঞ্জীবপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বিজেপি। পদ্মশিবির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উত্তপ্ত বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকাও। ১২৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর অঞ্জন দাস-সহ তিন তৃণমূল কর্মী। তাঁদের এক জনের অবস্থা গুরুতর বলে অভিযোগ উঠেছে। ভোটের পরেই গড়িয়ার পঞ্চসায়রে উত্তেজনা ছড়ায়। যাদবপুর বিধানসভা এলাকার ১৫৩ নম্বর বুথের বিজেপি এজেন্ট শান্তনু সরকারের অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শান্তনুর স্ত্রী অঙ্কিতা সরকারের অভিযোগ, তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁরা পুলিশে অভিযোগ করেছেন।

ভোট শেষ হতেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভাঙড়ে। ওই বিধানসভার কৃষ্ণমাটি এলাকায় আইএসএফ-তৃণমূল সংঘর্ষে বোমাবাজি ও বাইক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতেই আবার একদফা উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া ইত্যাদি বিধানসভা এলাকায়। নোয়াপাড়া বিধানসভার কুন্ডুবাড়ি মোড়ে বিজেপির অস্থায়ী শিবির ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অশান্তির জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা নির্মল করের পুত্রকে দায়ী করেছে বিজেপি। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্য দিকে, মোহনপুর পঞ্চায়েত প্রধান নির্মলের দাবি, বিজেপি নিজেদের কার্যালয় নিজেরাই ভেঙেছে।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এমনকি, কলকাতাতেও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ-সহ বিভিন্ন অপরাধের ১৯৭৯টি অভিযোগ জমা পড়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। হাই কোর্টের নির্দেশে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তা নিয়ে রাজ্যের জবাব চেয়েছিল হাই কোর্ট। খুন, ধর্ষণের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভোট পরবর্তী হিংসার বিভিন্ন মামলা এখনও বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ বার ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকানোর জন্য নজরদারি করতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শেষ দফা ভোটশেষে বৃহস্পতিবারই ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকে করে সিইও দফতর।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Post Poll Violence TMC BJP Congress
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy