Advertisement

নবান্ন অভিযান

অধ্যাপকদের নিয়োগ করা যাবে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে! সিঙ্গল বেঞ্চের রায় স্থগিত করে নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ

ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকেরা কি আদৌ প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন? এই প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ। সেই মামলা সিঙ্গল বেঞ্চ ঘুরে ডিভিশন বেঞ্চে যায়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৯
Professors can be appointed as presiding officers, says Calcutta High Court

ভোটে কলেজের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা যাবে, জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। — ফাইল চিত্র।

ভোটে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটাই বহাল থাকবে। মঙ্গলবার এমনই জানাল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। সহকারী অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিয়োগ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল হাই কোর্ট।

ভোটের কাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকেরা কি আদৌ প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন? এই প্রশ্ন তুলে মামলা করেছিলেন সহকারী অধ্যাপকদের একাংশ। সেই মামলায় হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চে প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন। ভোটের কাজে কেন সহকারী অধ্যাপকদের নিয়োগ করা হচ্ছে, কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন বিচারপতি রাও। কিন্তু আদালতের সেই প্রশ্নে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। তার পরেই বিচারপতি রাও সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে কমিশনের বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করে দেয়।

আদালত জানায়, কোনও ভাবেই যথাযথ কারণ না দেখিয়ে কলেজের সহকারী অধ্যাপকদের এমন কোনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত করা যাবে না, যা তাঁদের পদমর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিল কমিশন। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে সওয়াল-জবাবের পর বিচারপতি সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সহকারী অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সিঙ্গল বেঞ্চ যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা স্থগিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে কাজের জন্য রাজ্যের সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগ করেছিল কমিশন। কিছু দিন আগে তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে তাঁদের পৃথক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় কমিশন। অনেকেই ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা নেওয়া শুরু করেছেন।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Calcutta High Court Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy