টিকিট না-পাওয়ার অভিমান ভুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী সভায় উপস্থিত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বস্তুত, তৃণমূলনেত্রীর গাড়ি করেই সভায় গেলেন তিনি। শেষমেশ টিকিট না-পাওয়ার যন্ত্রণা কি ভুললেন? প্রবীণ রাজনীতিকের ঘুরিয়ে জবাব, ‘‘দিদির নির্দেশই সব।’’
শুক্রবার রাসমেলা ময়দানে কোচবিহার উত্তর এবং দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক এবং পার্থপ্রতিম রায়ের সমর্থনে জনসভা করেন মমতা। মঞ্চে নেত্রীর পাশে সামনের সারিতে বসেছিলেন তাঁর একদা ‘ছায়াসঙ্গী’ রবীন্দ্রনাথ। বস্তুত, প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর এই প্রথম বার রবীন্দ্রনাথকে নির্বাচনী প্রচারমঞ্চে দেখা গেল। তার আগে কখনও সমাজমাধ্যমে, কখনও সংবাদমাধ্যমে টিকিট না-পাওয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁকে এ-ও বলতে শোনা যায়, “রাজনীতি সব সময় বা সারাজীবন করতে হবে এমন নয়। এটা এক সময় সমাপ্ত করতে হয়। সুতরাং এই বিষয়ে আমার কোনও আফসোস নেই। দল সব ঠিক করেছে।” দিনকয়েক আগেই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হলাম।’’
এ হেন রবীন্দ্রনাথকে মমতার মঞ্চে উপস্থিত দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, কোচবিহারে যাওয়ার আগেই রবীন্দ্রনাথকে ফোন করে জনসভায় উপস্থিত থাকতে বলেন স্বয়ং মমতা। নেত্রীর নির্দেশ শিরোধার্য করে রবীন্দ্রনাথও রাসমেলা ময়দানে যান। শুধু তা-ই নয়, কোচবিহারের একটি বেসরকারি হোটেল থেকে মমতা যখন সভার উদ্দেশে রওনা দেন তখনও রবীন্দ্রনাথকেই তাঁর পাশে দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে রাসমেলা মাঠে হাজির হন তৃণমূলনেত্রী।
কিন্তু এত দিন দলীয় প্রার্থীদের প্রচারে কেন দেখা যায়নি তাঁকে? রবীন্দ্রনাথ আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘‘কোনও প্রার্থীই প্রচারের জন্য আমাকে ডাকেননি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও কেউ ডাকেননি। তাই কোনও সভায় যাইনি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘দিদি আমাদের অভিভাবক। দিদি যে নির্দেশ দেন, সেই নির্দেশ আমরা পালন করি। দিদি আমাকে সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ মেনে উপস্থিত ছিলাম।’’ সভায় মমতাও রবীন্দ্রনাথকে তাঁর দলের পুরনো দিনের কর্মী বলে আখ্যা দেন।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কোচবিহারের প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি, মমতার মন্ত্রিসভার প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথকে বৃহস্পতিবার জেলায় দু’টি নির্বাচনী জনসভায় দেখা যায়নি। নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ভোটের মরসুমে বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছিলেন। কোচবিহার শহরে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পথসভা করেছেন। সেখানেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। শেষমেশ মমতার নির্দেশে সভায় গেলেও প্রার্থীদের প্রচারে রবীন্দ্রনাথ ময়দানে নামবেন কি না, তা সময় বলবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত