রাজ্যের যে পাঁচ জন ডিআইজি-কে বুধবার নির্বাচন কমিশন অপসারিত করেছিল, তাঁদের নতুন দায়িত্বে দিল নবান্ন। রাজ্য পুলিশেরই অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না এই অপসারিত আধিকারিকেরা।
বুধবার কমিশন নির্দেশিকা জারি করে পাঁচ রেঞ্জের ডিআইজি পদে নতুন আধিকারিকদের নাম ঘোষণা করে। বলা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যেই তাঁদের কাজে যোগ দিতে হবে। সন্ধ্যায় অপসারিত পাঁচ জনের নতুন দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন ভোলানাথ পাণ্ডে। তাঁকে রাজ্য পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) ডিআইজি করা হয়েছে। বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন অলোক রাজোরিয়া। তাঁকেও ডিআইজি (আইবি) করেছে নবান্ন। এ ছাড়া, মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি সুধীর কুমার নীলকান্তম, রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি নিম্বালকর সন্তোষ উত্তমরাও এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি ভাস্কর মুখোপাধ্যায়কে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর ডিআইজি করা হয়েছে। অবিলম্বে এই বদলির নির্দেশিকা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
আরও পড়ুন:
কোনও রাজ্যে ভোটঘোষণার পর থেকে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের উপর নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকে। সেই মতো ভোটঘোষণার পর থেকে রাজ্য প্রশাসনে একের পর এক রদবদল করে চলেছে কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক জেলার জেলাশাসক, ডিআইজি-সহ শীর্ষ স্তরের আমলা, আইপিএস-দের সরতে হয়েছে। এমনকি, অনেক আধিকারিককে এ রাজ্যের ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ভিন্ রাজ্যে পর্যবেক্ষক করেও পাঠানো হচ্ছে। এ নিয়ে রাজ্য সরকার অসন্তুষ্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক চিঠিও লিখেছেন। অভিযোগ, কমিশন ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। যে ভাবে শীর্ষ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা জনস্বার্থের পরিপন্থী। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও এর ফলে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মমতা। কমিশনের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোই তাদের লক্ষ্য। তা নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে দাবি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত