আপাতত পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ আইপিএস আধিকারিককে নির্বাচনের কাজে অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে না। বুধবার রাতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস আধিকারিককে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ু এবং কেরলে পাঠানো হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত সেই তালিকায় থাকা পাঁচ আইপিএস অফিসারের জন্য ওই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না। ওই পাঁচ জনের ক্ষেত্রে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হবে।
বুধবার রাতের নির্দেশিকায় ১৫ জনের তালিকা দিয়ে বলা হয়েছিল, অবিলম্বে তাঁদের ভিন্রাজ্যে গিয়ে নির্বাচনী কাজে যোগ দিতে হবে। এই ১৫ জনের তালিকায় ছিলেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুরলীধর শর্মা, মুকেশ, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা, রশিদ মুনির খান এবং ওয়াকার রাজ়া। কমিশন সূত্রে খবর, ওই তালিকায় থাকা আকাশ, আমনদীপ, প্রবীণ, মুরলীধর এবং ওয়াকারকে আপাতত যেতে হচ্ছে না।
কমিশন সূত্রে খবর, আপাতত ওই পাঁচ জন পুরনো দায়িত্বেই বহাল থাকবেন। এই পাঁচ জনের মুরলীধর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার এবং ওয়াকার শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। সূত্রের খবর, আপাতত তাঁরা সেই পদেই থাকছেন। অন্য দিকে, বাকি তিন জনকে নবান্ন যে নতুন পদে বহাল করেছিল, আপাতত তাঁরা সেই দায়িত্বই পালন করবেন। উল্লেখ্য, হাওড়ার অপসারিত পুলিশ কমিশনার আকাশকে আইবির ডিআইজি করা হয়েছিল। বীরভূমের অপসারিত পুলিশ সুপার আমনদীপকে আইবির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে নিয়োগ করেছিল কমিশন। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার ছিলেন প্রবীণ। তাঁকেও অপসারণ করেছিল কমিশন। তার পরে তাঁকে নবান্ন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর আইজি করে।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত