মালদহের মোথাবাড়িতে অবস্থান-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনা পরিকল্পনামাফিক! এমনটাই মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, মোথাবাড়ির ঘটনার ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম কার নির্দেশে অশান্তি পাকিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
শুক্রবার হাওড়ার শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রচারে গিয়ে মোথাবাড়ির ঘটনায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করেন শমীক। নির্বাচনী প্রচারে এসে তিনি বলেন, ‘‘পরিকল্পনা করে মোথাবাড়িতে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তৃণমূল।’’ রাজ্য বিজেপির সভাপতি মনে করেন, দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ বিচ্ছিন্ন করতেই এ হেন ঘটানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে বাগডোগরা থেকে গ্রেফতার করা হয় মোফাক্কেরুলকে। তিনি পেশায় আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল কমিশন। তার পরেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেন মোফাক্কেরুল, এমনই অভিযোগ। তার আগেই রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি গ্রেফতার করে তাঁকে। তাঁর গ্রেফতারির পরেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মোফাক্কেরুলের পুরনো ‘যোগ’। ওই ছবিতে দেখা যায় মমতার মঞ্চে রয়েছেন ওই আইনজীবী (যদিও ওই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। সেই ছবি প্রসঙ্গে শমীক বলেন, ‘‘উনি (মোফাক্কেরুল) তৃণমূল। হুমায়ুনও তৃণমূল।’’
তবে মোথাবাড়ির ঘটনায় পরোক্ষ ভাবে বিজেপি-কেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। শুক্রবারের সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি ধার করে মিমকে নিয়ে এসেছে। আইএসএফ ওদের সঙ্গে। কংগ্রেসেরও উস্কানি আছে। আর বিজেপিরও উস্কানি আছে। বিহারে এরা পয়সা নিয়ে ভোট কেটে বিজেপিকে জিতিয়েছিল। বুধবার ওরা অশান্তি করেছে।” আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম-কে ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বিজেপির কোকিল। মালদহে তারাই এ সব করছে।’’ যদিও শমীকের দাবি, ‘‘যা মিম, তা-ই তৃণমূল।’’
আরও পড়ুন:
জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এক মঞ্চে বিতর্কসভায় যোগ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছোড়েন মমতা। সেই প্রসঙ্গে শমীকের কটাক্ষ, ‘‘সরকার থেকে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) চলে যাচ্ছেন। তখন অনেক সময় পাবেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কসভার কথা ভাবা যাবে।’’
মোফাক্কেরুলের গ্রেফতারির পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন সুকান্ত। তাঁর দাবি, মোথাবাড়ির অশান্তির ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুলের সঙ্গে ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেনের কোনও গোপন আঁতাঁত আছে কি না, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বালুরঘাটের সাংসদের কথায়, ‘‘দু’জনেই (মোফাক্কেরুল এবং মোশারফ) ইটাহারের বাসিন্দা। তদন্ত করে দেখতে হবে, মোফাক্কেরুল কার হয়ে কাজ করছিলেন? দুই ইটাহারবাসীর মধ্যে কোনও যোগসূত্র বা পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
২১:৫২
‘গোপন বৈঠক ডেকেছেন শাহ, ১৫০ ঘণ্টায় গুরুতর কিছু ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে’! দাবি এবং আশঙ্কাপ্রকাশ তৃণমূলের -
২১:২৯
নিজের কেন্দ্রে জনসংযোগে জোর মুখ্যমন্ত্রীর, ভবানীপুরে একের পর এক আবাসনে প্রচার সারলেন বিদায়ী বিধায়ক মমতা -
১৯:০৮
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’র প্রত্যেক প্রাপক বিজেপি-ঘোষিত তিনহাজারি ভাতা পাবেন? দলের তরফ থেকে কী জানালেন স্মৃতি -
১৭:৫৬
মিলিটারিদের দিয়ে মিটিং করছে, সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে এসেছে, সব নিয়েই খালি হাতে ফিরতে হবে! বিজেপি-কে নিশানা মমতার -
১৭:০৫
বাংলার উপর যে অত্যাচার করেছ, গণতান্ত্রিক ভাবে তার বদলা তো নেবই! বিজেপিকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রী মমতার