E-Paper

কুরুক্ষেত্র সমাজমাধ্যম, লক্ষ্য বেঁধে লক্ষ যোদ্ধা

সমাজমাধ্যম রাজনীতির অস্ত্র হয়েছে বহু দিন। ভোটের আগে সেই অস্ত্র ধারে-ভারে বেড়ে এখন তা দলগুলির পরিচিত প্রচারের সমান্তরাল হয়ে উঠেছে। ভোট-প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার তৃণমূলকে ‘পাণ্ডব’ আর বিজেপিকে ‘কৌরব’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৮

—প্রতীকী চিত্র।

কুরুক্ষেত্রে পাণ্ডব শিবিরে কত যোদ্ধা ছিলেন? সে সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, এ রাজ্যে স্বঘোষিত ‘পাণ্ডব’ শিবিরে সে সংখ্যা কমবেশি দু’লক্ষ।

দলের ভোট-কুশলী সংস্থার তত্ত্বাবধানে এই বিপুল সংখ্যক সৈনিক অবতীর্ণ এ বার বিধানসভার কুরুক্ষেত্রে। দলীয় সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমের এমন দেড় লক্ষ ‘স্বেচ্ছাসেবক’ সরাসরি কাজ করছেন তৃণমূলের পক্ষে। ভোট-প্রচারে অস্ত্র হিসেবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করতে কেন্দ্রীয় ভাবে কড়া নজরদারিও রাখা হচ্ছে।

সমাজমাধ্যম রাজনীতির অস্ত্র হয়েছে বহু দিন। ভোটের আগে সেই অস্ত্র ধারে-ভারে বেড়ে এখন তা দলগুলির পরিচিত প্রচারের সমান্তরাল হয়ে উঠেছে। ভোট-প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক বার তৃণমূলকে ‘পাণ্ডব’ আর বিজেপিকে ‘কৌরব’ বলে চিহ্নিত করেছেন। দলের এই শাখা এখন মমতার ‘পাণ্ডব’ শিবিরে সংগঠিত বাহিনীর চেহারা নিয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির ‘তথ্যপ্রযুক্তি টিম’-এর পরিচিতি রয়েছে। এ রাজ্যে প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির সেই অস্ত্রের সামনে তৃণমূলের প্রস্তুতিও বিশাল। দলীয় হিসেব অনুযায়ী, সরকারি ভাবে তিন ভাগে এই ‘কর্মযজ্ঞ’ পরিচালনা করছে তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আইপ্যাক। এই বাহিনীর কাজে নিয়মিত বিশেষ নজর রাখেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব বিষয়ে দলের বক্তব্য প্রচারে এ বারের ভোটে তৃণমূলের প্রায় দেড় লক্ষ ‘ওয়টস্যাপ গ্রুপ’ সক্রিয়। সেগুলির মিলিত সদস্যসংখ্যা গ্রুপের বহু গুণ। এই বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এবং গ্রুপের কাজ কী? গোটা পরিকল্পনার এক ভারপ্রাপ্তের কথায়, “দলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সমাজমাধ্যমে তুলে ধরাই এই সামগ্রিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। তা কী ভাবে করা হবে, সে সম্পর্কিত তথ্য ও তত্ত্বই একসঙ্গে পৌঁছতে পারে এই গ্রপের মাধ্যমে।” তাঁর কথায়, “এখানে মূলত সরকারের কাজের হিসাব দিয়ে তৃণমূলের পক্ষে জনমত গঠনই লক্ষ্য। সরকার সম্পর্কে মিথ্যা বা ভুল তথ্য খণ্ডন করতেও এই মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে।” এই মাধ্যমে দিনে কম-বেশি ১০ হাজার নতুন ‘কন্টেন্ট’ বা বিষয় তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেওয়া আছে। সেই বিষয়ে অবশ্য কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ ও নজর রাখা হচ্ছে। কখনও কখনও উপর থেকে তৈরি করেই পাঠানো হয়ে নীচে। সেই মতোই ২৯১ প্রার্থী, গুরুত্বপূর্ণ নেতা, জেলা স্তরের দলীয় কমিটি ও প্রচারের জন্য তৈরি ‘বাংলার গর্ব মমতা’র মতো অসংখ্য অ্যাকাউন্টে তা তুলে ধরার কাজ করছে এই বাহিনী।

রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার বুথে ভোট পরিচালনায় তৃণমূল ‘দিদির দূত’ নামে অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছিল, তা ১৮ লক্ষের বেশি ‘ডাউনলোড’ হয়েছে। দলের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে দলের ৭ লক্ষের বেশি ‘ইউজ়ার’ এই অ্যাপের মাধ্যমে নেতৃত্বের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করেন। দলের এক নেতার বক্তব্য, “এসআইআর পর্বে এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা হয়েছিল। এ বারের নির্বাচনী লড়াইয়ে ভোটার তালিকাই যে হেতু অন্যতম মূল বিষয় হয়ে উঠেছে, সে ক্ষেত্রে ‘দিদির দূত’ অ্যাপে সংগৃহীত তথ্য গোটা প্রক্রিয়ায় নজর রাখতে বিশেষ সহায়ক।” পরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন আবেদনের সময়ে ভোটারের পাশে দাঁড়িয়ে জনসংযোগও করেছেন তাঁরা।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মাধ্যমকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের বহির্বৃত্তে অভিষেকের ‘আমি বাংলা ডিজিটাল যোদ্ধা’রাও কাজ করছেন তৃণমূলের পক্ষে। সে সংখ্যাও কম নয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Social Media vote campaign

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy