ঠান্ডা-গরম লেগে গেলে নাক বন্ধ, তা থেকে মুখ খুলে ঘুমোনো, আর সেটির ফলাফল হিসেবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় অনেক সময়। তখন কেবল জল দিয়ে মুখ ধুলে বা মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করলে মুক্তি মেলে না। বরং সেই মাউথওয়াশগুলিতে থাকা অ্যালকোহল বা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। আর এখানেই কাজে আসতে পারে দু’টি কৌশল। নুন-জল এবং তেল দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন রোজ রাতে।
অয়েল পুলিং কাকে বলে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত
অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার মা, চিকিৎসক এবং কসমেটোলজিস্ট মধু চোপড়া সম্প্রতি একটি ভিডিয়োয় সেই বিষয়ে আলোচনা করলেন মুম্বই নিবাসী দন্তরোগ চিকিৎসক নীতিকা মোদীর সঙ্গে। আর সেখান থেকেই জানা গেল শুষ্ক মুখের সমস্যা দূর করার দুই উপায়ের কথা।
মা মধুর সঙ্গে প্রিয়ঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত
নুন মেশানো ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করা উচিত, যা মুখের ভিতরের অংশকে ক্ষারীয় করে তোলে। আবার তা ছাড়া ‘অয়েল পুলিং’ও এ ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। নীতিকা মোদী জানাচ্ছেন, রাতে শোয়ার আগে এই পদ্ধতিতে মুখ ধুলে শুষ্ক মুখের সমস্যা কমতে পারে। রাতে মুখ খুলে শোয়ার অভ্যাস থাকলে তা-ও বন্ধ হবে। চিকিৎসক জানালেন, এর ফলে দাঁতের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। তা ছাড়া মুখগহ্বরের ভিতরের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াকে নাশ করার জন্যও ‘অয়েল পুলিং’ খুব উপকারী। মুখের ভিতরের গোলাপি আভাও বজায় থাকে এর ফলে। পাশাপাশি, কুলকুচি করার ফলে মুখগহ্বরের পেশিগুলি সক্রিয় থাকে। তাতে মুখমণ্ডলে চর্বি জমার প্রবণতাও কমে।
কী ভাবে করতে হয় ‘অয়েল পুলিং’?
১ চামচ একস্ট্রা ভার্জিন নারকেল তেল বা তিলের তেল মুখে নিন। তার পর ১৫-২০ মিনিট ধরে কুলকুচি করুন। এক এক বারে অন্তত ২-৩ মিনিট মুখে তেল রাখুন। তার পর বেসিনে ফেলে দিন সেই তেল। শুরুর দিকে ৩০-৪০ সেকেন্ডের বেশি ক্ষণ মুখে তেল ধরে রাখতে না পারলেও ধীরে ধীরে সময়সীমা বাড়িয়ে নিন। তেল কোনও ভাবে গিলে নেবেন না যেন! শেষে ঈষদুষ্ণ জল ও ব্রাশের সাহায্যে দাঁত মেজে মুখ ভাল করে ধুয়ে নিন।