নিইয়ম মাফিক জল খেলে প্রস্রাব হলুদ হয়। কখনও প্রস্রাব থেকে বিশ্রী গন্ধও ছাড়ে। কিন্তু তার মানেই কি শরীরে সমস্যা? এমনটা হলে কি ধরে নিতে হবে, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে?
ডায়াবেটিকদের প্রস্রাবে বিশেষ ধরনের গন্ধ হয়। যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁরা অনেকেই জানেন, এই গন্ধ বদল। নয়ডা নিবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক পঙ্কজ বনশল জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে, প্রস্রাবে বিশেষ ধরনের গন্ধ বার হয়। তার কারণ হল, ডায়াবেটিকদের শরীরে শর্করা শোষিত হয় না। অতিরিক্ত শর্করা প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায় বলে দুর্গন্ধ হয়।
সেই কারণেই ডায়াবেটিকদের মূক্রনালিতে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি থাকে। শুধু ডায়াবিটিস নয়, পেটে বা মূত্রনালিতে সংক্রমণ হলে, যে কোনও সুস্থ মানুষের প্রস্রাবের গন্ধে বদল হতে পারে। পাল্টে যেতে পারে প্রস্রাবের বর্ণও।
আরও পড়ুন:
মিষ্টি গন্ধ!
প্রস্রাবে যে সব সময় দুর্গন্ধ থাকবে, এমন নয়। এমন গন্ধও থাকে, যাকে ঠিক দুর্গন্ধ বলে ধরা যায় না, কিন্তু সেই গন্ধ ঝাঁঝালো নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এমনটা হওয়াও সম্ভব। অনেক সময় শর্করা ঠিকমতো কাজ না করায় শরীর দ্রুত চর্বি ভাঙতে শুরু করে শক্তির জন্য। একে বলা হয় ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস। এই ধরনের সমস্যা হলেও প্রস্রাবের গন্ধে বদল আসতে পারে।
কখন তা বিপজ্জনক
গরমের দিনে জল কম খেলে, শরীরে জলাভাব হলে প্রস্রাবের পরিমাণ যেমন কমে যায়, তেমনই গন্ধও বদল হয়। আবার জল খেলে ঠিক হয়ে যায়। সাময়িক ভাবে মূত্রের বর্ণ বা গন্ধে বদল হলে ততটা চিন্তার কিছু নেই। কিন্তু রং বা গন্ধের বদল যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, টানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রস্রাবের গন্ধ শুধু ডায়াবিটিস চিহ্নিত করে না, জন্ডিস হলে, এসজিপিটি বা এসজিওটি বেড়ে গেলেও অনেক সময় এমন হয়, প্রস্রাবের রং-এ বদল আসে।