সমাজমাধ্যমের নানা রিল ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নুন মেশানো জলে নাকি শরীর বেশি ক্ষণ আর্দ্র থাকে, ক্লান্তি কমে, এমনকি গায়ে জোরও পাওয়া যায় গরমের সময়ে। নেটপ্রভাবীরা কেউ কেউ আবার একে ‘ইলেকট্রোলাইট জল’ বলেও প্রচার করছেন। কিন্তু চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের একাংশ এই প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করছেন। তাঁদের মতে, সবার জন্য এই অভ্যাস উপকারী তো নয়ই, উল্টে ক্ষতিকরও হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই জানতে হবে, কারা এই ট্রেন্ড অনুসরণ করতে পারেন, কারা পারেন না।
নুন-জল কখন এবং কাদের খাওয়া উচিত? ছবি: সংগৃহীত
শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সোডিয়ামের ভূমিকা রয়েছে, সে কথা অনেকেরই জানা। অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, অসুস্থতার কারণে বমি বা পেটখারাপ হলে শরীর থেকে সেই লবণ বেরিয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তাই বলে সারা দিনে যত বার জল পান করবেন, তত বারই যদি গ্লাসে নুন মেশাতে থাকেন, তা কোনও ভাবেই স্বাস্থ্যকর হতে পারে না। তা ছাড়া চিকিৎসকদের মতে, রোজের খাবার থেকেই সাধারণত প্রয়োজনীয় সোডিয়াম শরীরে পৌঁছে যায়। তাই আলাদা করে নুন খেলে শরীরে প্রয়োজনের থেকে বেশি হয়ে যেতে পারে সোডিয়ামের মাত্রা। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে জল জমে যাওয়া, কিডনির উপর চাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কোন সময়ে প্রয়োজনীয় হতে পারে?
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ট্রেন্ড কার্যকরী হতে পারে। প্রবল তাপপ্রবাহ চলাকালীন যদি দীর্ঘ ক্ষণ জল পান না করতে পারেন, শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায়, অথবা একটানা রোদে দাঁড়িয়ে থাকেন কিংবা লম্বা সময় ধরে শরীরচর্চা করেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করেন, খেলাধুলো করেন, তা হলে শরীর থেকে ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে দেহে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ফেরাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওআরএস বা নির্দিষ্ট ইলেকট্রোলাইট পানীয় কাজে আসতে পারে। কিন্তু যথেচ্ছ নুন মেশানো জল খেতে নেই। পরিমাণও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোন ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যহানির ঝুঁকি থাকতে পারে?
এই টোটকা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। নয়তো স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক হতে পারে এই ট্রেন্ড। কিডনির সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তচাপের হেরফের হওয়ার প্রবণতা, হার্টের রোগ ইত্যাদি থাকলে এই ট্রেন্ডের ধারেকাছে যাওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তার পর নুন-জল পান করা উচিত। নয়তো এই রোগগুলিই গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত নুন ক্ষতিকর হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে শরীর ভাল রাখতে সবচেয়ে জরুরি হল নিয়মিত জল পান করা, ফল খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে ডাবের জল বা ঘোলের মতো পানীয় বেছে নেওয়া। অনেক সময়ে ট্রেন্ডের মোড়কে অস্বাস্থ্যকর প্রথা প্রচার করার চল দেখা যায়। তার থেকে দূরেই থাকা উচিত।
(এই প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। গরমে নুন-জল বা ইলেকট্রোলাইট সেবনের বিষয়ে জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।)