Advertisement
E-Paper

কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ! আশুতোষ, মেঘনাদের বিজ্ঞান কংগ্রেসে বন্ধ গবেষণা, সমঝোতার পথ খুঁজছে সংগঠন

শনিবার কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যেরা। কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এই সংগঠনের বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ, তা নিয়েই আলোচনা হয়। উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ১৮:৩৪
শুরু হোক গবেষণা, চাইছেন বিজ্ঞানীরা।

শুরু হোক গবেষণা, চাইছেন বিজ্ঞানীরা। নিজস্ব চিত্র।

১৯১৪ সালের ১৫-১৮ জানুয়ারি, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে আয়োজিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস-এর প্রথম সম্মেলন। সভাপতি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। সারা দেশে থেকে বিজ্ঞানীরা জড়ো হয়েছিলেন, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, ভূগোল এবং এথনোগ্রাফি বিষয়ে প্রায় ৩৫টি গবেষণাপত্র নিয়ে।

শতাধিক বছরের পুরনো এই সম্মেলন স্তব্ধ হয়ে রয়েছে গত তিন বছর। কেন্দ্রের নীতি মেনে নেওয়ায় আপত্তি উঠেছিল সংগঠনের সদস্যদের তরফে। ২০২৩-এর জানুয়ারিতে শেষ বারের মতো সম্মেলনের আয়োজন করা গিয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় তার পর থেকে আর তা সম্ভব হয়নি, আক্ষেপ সংগঠনের প্রবীণ সদস্যদের।

শনিবার কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজে এক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যেরা। কী ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এই সংগঠনের বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ, তা নিয়েই আলোচনা হয়। উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন তাঁরা।

এ দিন কলেজের মেঘনাদ সাহা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ওই বৈঠকে ছিলেন সংগঠনের সদস্যেরা। তাঁরাই জানালেন, কেন্দ্রীয় নীতির বিরোধিতা-সহ নানা জটিলতায় থমকে রয়েছে গবেষণার কাজ। তিন বছর সম্মেলনের আয়োজন করা হয়নি। এ সমস্যার সমাধানে এ বার উদ্যোগী হয়েছেন তাঁরা। মাস কয়েক আগে এই সংগঠনকে বাঁচাতে তৈরি হয়েছে ‘ফোরাম অফ রিভাইভাল অফ সায়েন্স, রিভাইভাল অফ এসসিএ’। নবগঠিত ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক অমরপ্রকাশ গর্গ বলেন, “১৯১৪ সালে যে সংগঠনের পথ চলা শুরু, সেই সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল রাজ্যের সোসাইটি আাইনে অনুযায়ী। কিন্তু ২০২৩-এ কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর থেকে সেই আইন পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তা নিয়েই জটিলতা শুরু হয়। কলকাতা হাই কোর্ট এখন মামলা চলছে।”

তবে এই জটিলতা কাটিয়ে নিজেদের গবেষণায় মন দিতে চাইছেন সদস্যেরা। ব্রিটিশ ভারতে বিজ্ঞানচর্চার অগ্রগতি নিয়ে ভেবেছিলেন দুই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী— অধ্যাপক জেএল সাইমনসেন এবং অধ্যাপক পিএস ম্যাকমোহন। তাঁদের উদ্যোগেই ‘ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স’-এর আদলে বিজ্ঞান গবেষকদের নিয়ে একটি বার্ষিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের নামে। এক সময় মেঘনাদ সাহা ছিলেন এই সংগঠনের সভাপতি। ১০০ বছর পেরিয়ে সেই সংগঠনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিন্তিত সংগঠনের সদস্যেরা।

অমরপ্রকাশ গর্গ জানান, গত তিন বছর অ্যাসোসিয়েশনের সব কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। মোট খরচের ৯৮ শতাংশ টাকা দিত কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক (ডিএসটি)। তা-ও বন্ধ। অ্যাসোসিয়েশনের যে কর্মসমিতি (এগ্‌জ়িকিউটিভ কাউন্সিল) ছিল তার মেয়াদও ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে। ফলে এখন অ্যাসোসিয়েশনের কাজ প্রায় বন্ধ। যদিও কর্মচারীদের বেতন এখনও দিচ্ছে ডিএসটি।

এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্যদের একাংশ স্থির করেছেন, বিজ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য রক্ষা করতে, থমকে থাকা গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁরা কেন্দ্রের নীতি মেনে নেবেন। তবে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। তাঁদের মতামত জানা প্রয়োজন। এ জন্য ই-মেল করে সদস্যদের মতামত জানতে চাইছে সংগঠন। অমরপ্রকাশ বলেন, ‘‘আমরা ডিএসটি-র আইন মেনে নিতে চাই। কিন্তু সে ক্ষেত্রে অন্তত ২০ হাজার সদস্যের মতামত প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই মান্যতা পাবে। সেই অনুযায়ী আমরা ডিএসটিকে আমাদের অবস্থান জানিয়ে দেব। আবার অ্যাসোসিয়েশনের কাজ শুরু হবে।’’

Department of Science and Technology (DST)
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy