লাল, নীল, হলুদ, সবুজ— নানা রঙের হয়। শহর থেকে শহরতলি, স্টেশনে, বাজারে, পথেঘাটে এই গরমে মুহূর্তের আরামের নাম ‘গোলা’। স্বাদে মিষ্টি বরফগোলার ফ্লেভার হরেক— কোলা থেকে পুদিনার চাটনি। সেই অনুযায়ী নামও আলাদা, আর দামও। রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া লাল-নীল-কমলা রঙের গোলা খেলেই তা থেকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এমনই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হরেক রকম স্বাদের গোলা তৈরিতে যে বরফ মেশানো হচ্ছে, তা আসলে বাণিজ্যিক বরফ। এতে এত বেশি পরিমাণে রাসায়নিক উপাদান থাকে যে, তা থেকে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। রাস্তার ধারের দোকানগুলি থেকে এই ধরনের গোলা না খাওয়াই ভাল। এর থেকে বিষক্রিয়াও হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের মতে, বাণিজ্যিক বরফ যে জল দিয়ে তৈরি হয়, তা মোটেই পানযোগ্য নয়। ওই বরফ দিয়ে তৈরি পানীয় খেলে জন্ডিস, টাইফয়েড, পেটের রোগ তো বটেই, স্নায়ুর অসুখ, কোলন ক্যানসারেরও ঝুঁকি বাড়তে পারে। মাছ, মাংস বা শবদেহ সংরক্ষণে যে বরফ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি অনেক সময়ে বাড়তি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী তা ফেলে দেন। বাড়তি ওই বরফের একটা অংশ বাজারে চলে আসে। এমন বরফের দামও কম। এই বিষয়ে চিকিৎসক শুভম সাহার বক্তব্য, বাণিজ্যিক বরফ দিয়ে তৈরি শরবত পেটে গেলে টাইফয়েডের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে। বিষক্রিয়াও হতে পারে। শিশুদের এমন ধরনের পানীয় না খাওয়ানোই ভাল।
ভারী ধাতু, দূষিত পদার্থ ছাড়াও থাকে বিসফেনল (এক ধরনের রাসায়নিক, যা প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়)। এই বিসফেনল শরীরের জন্য বিষ। যাবতীয় বিধিনিষেধ অগ্রাহ্য করে রাস্তার দোকানে বিক্রি হওয়া লস্যি শরবত, পানীয়েই অবাধে মেশানো হচ্ছে বাণিজ্যিক বরফ। কারণ, এগুলির দাম কম। আর অপরিশোধিত জল থেকে যে হেতু বরফ তৈরি হচ্ছে, তাই এর থেকে লিভারের রোগ, কিডনির জটিল অসুখও হতে পারে।