Advertisement
E-Paper

ছুটির দিনে বসে উচ্ছেদ মামলা শুনল হাই কোর্ট! অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল ডায়মন্ড হারবার রোডের ধারে আবাসন খালিতে

ছ’তলা আবাসনটি খালি করার জন্য শুক্রবার নির্দেশ দেন দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল। দমকলের নোটিসে বলা হয়, শনিবার ওই বাড়ির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে। ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ২০:২৪

— প্রতীকী চিত্র।

আবাসন থেকে উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি মামলা শুনতে শনিবার, ছুটির দিনে বসল হাই কোর্ট। কলকাতায় ডায়মন্ড হারবার রোডের ধারে একটি ছ’তলা আবাসনের বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশের উপর শনিবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাই কোর্টের বিচারপতি সুগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। ওই আবাসনে কী ধরনের ত্রুটি ছিল, কতটা বিপদ ছিল, কেন জরুরি ভিত্তিতে উচ্ছেদের দরকার হল, সে বিষয়ে রাজ্যের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ৮ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

ছ’তলা ওই আবাসনটি খালি করার জন্য শুক্রবার নির্দেশ দেন দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি)। দমকলের নোটিসে বলা হয়, শনিবার ওই বাড়ির বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে। ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ছুটির দিনে কোর্ট বসানোর অনুমতি দেন প্রধান বিচারপতি।

শনিবার দুপুর ২টোয় মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে। সেখানে দমকল বিভাগ জানায়, বহুতল ওই ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সেই কারণেই উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানায় দমকল। অন্য দিকে, আবাসনের বাসিন্দাদের হয়ে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে সওয়াল করেন, ১৫ মে আবাসনটি পরিদর্শন করে দমকল বিভাগ। সেই দিনই উচ্ছেদের নির্দেশ জারি হয়। শনিবারের মধ্যেই বাড়ি খালি করতে বলা হয়। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইনজীবীর বক্তব্য, এত কম সময়ে মানুষকে বাড়ি ছাড়তে বলা অন্যায় ও অযৌক্তিক। তিনি সওয়াল করেন, আইন অনুযায়ী শুধু ‘ফায়ার সেফটি নেই’ বললেই হবে না। কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ করতে হবে— বাড়িটি সত্যিই বিপজ্জনক ছিল কি না, মানুষের প্রাণহানির তাৎক্ষণিক আশঙ্কা ছিল কি না, কোন রিপোর্ট বা তথ্যের ভিত্তিতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উচ্ছেদের নির্দেশে এ সব বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ নেই বলেই জানান তিনি। মামলাকারীর আইনজীবীর জানান, ২০০৮ সালে তাঁর মক্কেল বাড়িটি পেয়েছিলেন। যদি বাড়িটি এতটাই বিপজ্জনক হয়, তা হলে এত বছর পরে হঠাৎ এমন জরুরি পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল?

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আইনে বলা হয়েছে কোনও উচ্ছেদ নোটিস দেওয়ার আগে জানাতে হবে কী কারণে বাড়িটি বিপজ্জনক। কেন মানুষকে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে যেতে বলা হল। কিন্তু সেই ব্যাখ্যা নির্দেশে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ নেই। এর পরেই উচ্ছেদের ওই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয় হাই কোর্ট। বিচারপতি জানান, মামলায় রাজ্যকে নোটিস জারি করা হল। কোন রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কী ধরনের ত্রুটি ছিল, কতটা বিপদ ছিল, কেন এত জরুরি উচ্ছেদ দরকার হল— তা জানাতে হবে রাজ্যকে।

Calcutta High Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy