Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলেও ভোট দেওয়া যাবে! বাতিল ভোটারদের নিয়ে রায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

নির্বাচনের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে বাতিল ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫০
এসআইআর মামলায় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

এসআইআর মামলায় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত।

নির্বাচনের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি করে নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে এসআইআর মামলায় এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

রাজ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র দেবে ট্রাইবুনাল, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ২৭ এপ্রিল। ট্রাইবুনাল নিষ্পত্তি করে ছাড়পত্র দিলে ওই ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেন। তবে ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।

ভোটে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা করার শেষ দিনে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেয় কমিশন। এ বার সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করল। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ভোটদানের দু’দিন আগে পর্যন্ত যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির পরে নাম তালিকায় তোলার জন্য ছাড়পত্র দেবে ট্রাইবুনাল, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। তবে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি হতে হবে ট্রাইবুনালে। সেখানে শুধু আবেদন করলেই চলবে না।

Advertisement

রাজ্যে বিবেচনাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে ২৭ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। সে জন্য সশরীরে হাজিরাও আবশ্যিক নয়। ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ কিংবা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও আবেদন করা যাবে। জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন করতে পারেন বাদ পড়া ভোটারেরা। সেই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়ে। এসআইআর সংক্রান্ত ‘আপিল ট্রাইবুনাল’-এর দফতরে বসছেন ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের নথি খতিয়ে দেখছেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআরের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীন (আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সব ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তির কাজ করেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় নাম ফিরেছে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের। বাদ পড়েছেন ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৩ মিনিট আগে
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy