Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘বদলি এই প্রথম নয়’! রাজ্যের আধিকারিকদের অপসারণ নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্টও

তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে জানান, বদলির আগে রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিল। অতীতেও উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এ বারে কোনও পরামর্শই করা হয়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩২

— প্রতীকী চিত্র।

অফিসারদের অপসারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। এ বার তাদের নির্দেশে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্টও। মুখ্যসচিব-সহ রাজ্যের অনেক অফিসারকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাদের সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানালেন, আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এখনই আদালত মামলাটি শুনতে আগ্রহী নয়। তবে আইনগত প্রশ্নে মামলাটি বিচারাধীন রাখা হল।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অফিসারদের বদলির ঘটনা সর্বত্রই ঘটে, এটা প্রথম বার নয়। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে জানান, বদলির আগে রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিল। অতীতেও উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এ বারে কোনও পরামর্শই করা হয়নি। এর পরেই প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁরা তো পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অফিসার, তা হলে এতে পক্ষপাতের অভিযোগ কেন? তাঁর পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনের আগে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ হল আদালতকে বিচারকদের নিয়োগ করতে হয়েছে। কারণ, আস্থার ঘাটতি দুই পক্ষের মধ্যেই রয়েছে। কমিশনের রাজ্য প্রশাসনের উপর আস্থা নেই, আবার রাজ্যেরও কমিশনের উপর পূর্ণ ভরসা নেই।’’ রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ সওয়াল করে জানান, ভোটের আগে রাজ্যের ১,১০০ জন অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। কোন ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম। প্রথম বার মুখ্যসচিবকেও বদলি করা হয়েছে। কল্যাণের দাবি, তিনি কিছু প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন বলেই বদলি করা হয়েছে। শুধু মতভেদ কি বদলির যথেষ্ট কারণ হতে পারে? প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যদি বাইরের রাজ্য থেকে অফিসার আনা হত, তা হলে আদালতের ওই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আরও জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি দেখা উচিত নয়। বাইরের রাজ্যের পর্যবেক্ষক অনেক সময় নিরপেক্ষতার দিক থেকে আদর্শ হতে পারেন। আদালত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিষয়টি দেখছে। কিন্তু যদি আগামী দিনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়, আর তখন বলা হয় যে, তা আইনে স্পষ্ট ভাবে লেখা নেই— তা হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আইনে রিটার্নিং অফিসার বা রাজ্যের নির্দিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা আলাদা করে রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা একই ভাবে নেই।

ভোটের মুখে রাজ্যে মুখ্যসচিব থেকে পুলিশকর্তা, প্রশাসনিক আধিকারিকদের রদবদলের প্রতিবাদে হাই কোর্টে মামলা করেছিল শাসকদল তৃণমূল। সেই মামলা খারিজ হয়ে যায় হাই কোর্টে। আদালত জানায়, সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করেছে। মামলা খারিজের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের কথা বলে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চ। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আধিকারিক বা সরকারি কর্মীদের অল্প সময়ের জন্য পূর্ব দায়িত্ব বা কর্মস্থল থেকে সরানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই যে, তারা প্রতিটি বদলির কারণ ব্যাখ্যা করবে। তাই এই ধরনের বদলি বা অপসারণকে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করার প্রেক্ষিতেই বুঝতে হবে। হাই কোর্ট আরও জানায়, আধিকারিকদের বদলি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। তাতে সাধারণত হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করে না। যদি কমিশন ক্ষমতার বাইরে গিয়ে স্পষ্ট ভাবে বেআইনি কোনও কাজ করে, তবেই হস্তক্ষেপ করা যেত। কলকাতা হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য। কলকাতা হাই কোর্টের সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্টও।

গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে। ওই রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় কমিশন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। সেই তালিকা ক্রমে দীর্ঘ হয়েছে। এক দিনের মধ্যে রাজ্যের বিডিও এবং বিভিন্ন থানার ওসি-সহ ২৬৭ জন আধিকারিককে অপসারণ করেছে কমিশন। দায়িত্ব থেকে সরানো হয় একের পর এক আধিকারিক এবং পুলিশকর্তাকে। সেই নিয়েই কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy