শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম এবং দ্বিতীয় দুই দফার ভোটার তালিকাই ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসআইআর-এর বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে দেখছে ট্রাইবুনাল। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইবুনালে ‘পাশ করা’ বাতিল ভোটারদের কী হবে? আদৌ কি তাঁরা ভোট দিতে পারবেন? ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলে ‘ফ্রিজ়’ করা ভোটার তালিকায় কি এই নামগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে? এ বিষয়ে আগামী সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ তেমনটাই জানাল।
প্রথম দফার নির্বাচনের ভোটার তালিকা আগেই ‘ফ্রিজ়’ হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ভোটার তালিকাও ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ‘ফ্রিজ়’ করা তালিকাই চূড়ান্ত হিসাবে গণ্য হয়। তার ভিত্তিতেই ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও অনেক ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিবেচনা চলছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত টাইবুনালে। শুক্রবার এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাধিকার অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করা হবে। আগামী সোমবার ১৩ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সে দিনই ট্রাইবুনালের নিষ্পত্তি এবং ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে আদালত।
আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক আইনজীবী জানতে চেয়েছিলেন, ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়ে যাওয়ার পর ট্রাইবুনালে যাঁদের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে? ইতিমধ্যে তালিকা ফ্রিজ় করে দেওয়া হয়েছে। এর পর যদি কোনও ভোটার ট্রাইবুনালের ছাড়পত্র পান, তিনি কি ভোট দিতে পারবেন? ফ্রিজ় হওয়া তালিকায় কি তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে? নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে জানান, বৃহস্পতিবারই শেষ দিন ছিল। নিয়ম মেনে ভোটার তালিকা ফ্রিজ় করা হয়েছে। এর পর আর কোনও আবেদন বিবেচিত হওয়াই উচিত নয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফ্রিজ় হওয়া তালিকা ধরেই ভোট হওয়া উচিত।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, প্রত্যেক নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার কাট-অফ তারিখ থাকে। আদালত তা নিয়ে ভাবছে। পাশাপাশি, এখানে নাগরিকের মৌলিক অধিকারের বিষয় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিক পাবেন। এই অধিকারটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্থায়ী অধিকার হিসাবে বিবেচিত। তাই এ বিষয়ে আরও বিবেচনা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি জানান, স্থায়ী অধিকার থেকে ভোটারদের বঞ্চিত করা হবে না।
আবেদনকারী আইনজীবী আরও জানান, পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অবিলম্বে তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত। এই বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখবে আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত