মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে গোলমালের ঘটনায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরকে থানায় তলব করা হয়েছে। হেয়ার স্ট্রিট থানা থেকে নোটিস পেয়েছেন কলকাতা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুন্ডু এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচীন সিংহ। তাঁদের বিরুদ্ধে আগেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। ওই দুই কাউন্সিলরকে থানায় হাজিরা দিতে বলেছে পুলিশ।
সিইও দফতরের সামনে গোলমালের ঘটনায় মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুই কাউন্সিলর ছাড়াও রয়েছেন মহম্মদ ওয়াসিম, মইদুল, চন্দ্রকান্ত সিংহ এবং মহম্মদ রিজ়ওয়ান আলি। তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হতে পারে। সূত্রের খবর, শান্তিরঞ্জন এবং শচীনের বাড়িতে হেয়ার স্ট্রিট থানা নোটিস পাঠিয়েছে। দু’জনকে থানায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনা সম্পর্কে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-এ বলা হয়েছে, গত ৩১ মার্চ এবং ১ এপ্রিলের মধ্যবর্তী রাতে অভিযুক্তেরা হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রসিংয়ে নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বেআইনি ভাবে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁরা কথা শোনেননি। বেআইনি কার্যকলাপ চালিয়ে গিয়েছেন। সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দিয়েছেন। তাঁদের জমায়েতে রাস্তা আংশিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে রাস্তায় যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগানও দিচ্ছিলেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার আবেদনপত্র (ফর্ম ৬) ঘিরে গত সোমবার থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুর থেকে তাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূলপন্থী কয়েক জন বিএলও সিইও দফতরের সামনে জড়ো হন। দাবি করেন, ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে কয়েক জন দফতরে প্রবেশ করেছেন। ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে বাইরের রাজ্য থেকে লোক নিয়ে এসে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম যোগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এই সময় বিজেপি কর্মীরাও সিইও দফতরের সামনে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। দু’পক্ষই স্লোগান দিতে থাকে। রাতের দিকে ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় পুলিশকে। এই ঘটনার রেশ ছিল বুধবারও। যে কারণে সিইও দফতরের সামনে ১৬৩ ধারার পরিধি বাড়িয়ে দিতে হয় পুলিশকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত