Advertisement

নবান্ন অভিযান

ভবানীপুরে শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তিতে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ, কমিশনের অভিযোগে পদক্ষেপ

বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়েছিল শুভেন্দুদের রোড শো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনায় এফআইআর করা হল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩১
বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের রোড শো-তে অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী।

বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের রোড শো-তে অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মনোনয়ন দাখিল করার আগে তাঁর রোড শো-তে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতেও পদক্ষেপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাজরা মোড় থেকে শুরু হয়েছিল শুভেন্দুদের রোড শো। সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত রোড শো করেই মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ক্রমে তা ধস্তাধস্তির পর্যায়ে পৌঁছোয়। এই ঘটনায় জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (ডিইও) কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কমিশন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই লালবাজার পদক্ষেপ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় কালীঘাট থানায় একটি এবং আলিপুর থানায় দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে কালীঘাট এবং আলিপুরে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর করেছে। আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কমিশনের আধিকারিকেরা। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। মূলত বেআইনি জমায়েত, স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে অশান্তির ঘটনায় কমিশন কঠোর বার্তা দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের। বৃহস্পতিবারই কর্তাদের সঙ্গে কমিশনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে ভর্ৎসনা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বলেন, ‘‘আইপিএস হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না? আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’’ কেন একাধিক জায়গায় এমন জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতি আগে থেকেই নেওয়া ছিল। তবে তৃণমূলের তরফে কোনও জমায়েতের অনুমতি ছিল না বলে দাবি বিজেপির।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Suvendu Adhikari Amit Shah Mamata Banerjee Kolkata Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy