ভোটপ্রচারে বেরিয়ে কোনও প্রার্থী ভোটারের হেঁশেলে ঢুকে বাটনা বেটে রান্না করে দিচ্ছেন, কেউ দাড়ি কেটে দিচ্ছেন। হেঁশেলে ঢুকে প্রচার তিনিও করেছেন। কিন্তু প্রচারে ‘অভিনবত্ব’ আনতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন উত্তরপাড়ার বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো এনএসজি-র ট্রাকসুট পরে প্রচার করে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছেন। এমনই অভিযোগ তুলল তৃণমূল। যদিও দীপাঞ্জনের দাবি, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির উদাহরণ টেনেছেন প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো।
তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করেছেন দীপাঞ্জন। এনএসজি-তে থাকাকালীন একাধিক এনকাউন্টার করার কথা তিনি ফলাও করে প্রচার করছেন। এই ভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করা আইনবিরুদ্ধ। বস্তুত, দীপাঞ্জনকে দেখা গিয়েছে এনএসজি-র কালো ট্রাকসুট পরে গাড়িতে উঠে প্রচার করতে।
ওই নিয়ে উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা কমিশনে অভিযোগ করব। উনি এগুলো করে প্রমাণ করে দিচ্ছেন, আমরা যে অভিযোগটা করছিলাম সেটা ঠিক। ‘এজেন্সি’ (কেন্দ্রীয় সংস্থা)-কে ব্যবহার করে বিজেপি। ওদের নিজেদের কোনও সংগঠন নেই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এত দিন ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স নিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করত বিজেপি। এ বার নির্বাচন কমিশনকেও নিয়ে এসেছে। এখন আবার এনএসজি-ও নিয়ে এসেছে।’’ তৃণমূল প্রার্থীর এ-ও দাবি, তিনি প্রচারে বেরিয়ে এমন অনেক প্রাক্তন সেনাকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা দীপাঞ্জনের এই কাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, বিজেপি প্রার্থীর খোঁচা, ‘‘উনি (তৃণমূল প্রার্থী) তো আইনজীবী। আইনানুগ ব্যবস্থা নিন। তার জবাব দেব।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘সমস্যা হচ্ছে, উনি জানেন না ওটা এনএসজি-র ইউনিফর্ম নয়। ওই ট্রাকসুট যে কেউ পরতে পারেন। মহেন্দ্র সিংহ ধোনিও পরেন। তা হলে তাঁকেও বলা হোক।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
১৩:৩০
তৃণমূলের ‘পুঁজিতে’ থাবা! রাজ্যে ৪৫ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও বিজেপির ঝুলিতে, মেরুকরণই কারণ? -
০০:৩১
দিকে দিকে আক্রান্ত বাম-বিজেপি-তৃণমূল! খাস কলকাতায় চলল বুলডোজ়ার, বসিরহাটে জখম পুলিশ -
২৩:১৭
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের -
২১:৫৫
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত -
১৮:২৩
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক