স্ত্রীর প্রেমিক বিএলও-র হাতে খুন হয়েছিলেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে। নথির নামে ডেকে টুকরো টুকরো করে নাসির আলির দেহাংশ ফেলা হয়েছিল খাল এবং নালায়। ডিএনএ পরীক্ষাশেষে রবিবার তাঁর দেহাংশ ফিরল বাড়িতে। কান্নার রোল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার পাপিলা গ্রামে। সকলে সমস্বরে ধৃত বিএলও-র কড়া শাস্তি দাবি করেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান ৩৬ বছরের নাসির। ওই এলাকার বিএলও তথা প্রাথমিক শিক্ষক রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানায় যুবকের পরিবার। অভিযোগপত্রে জানানো হয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য নথি চেয়ে নাসিরকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে নাসিরের ফোন বন্ধ ছিল।
তদন্তে নেমে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএলও এবং তাঁর এক সঙ্গীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বাদুড়িয়ার নদী এবং খাল থেকে নাসিরের টুকরো করা দেহ একাধিক প্লাস্টিকের প্যাকেটে পাওয়া যায়। কিন্তু দেহ এত টুকরো করা হয়েছিল যে তার ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হয়। জানা যায়, দেহাংশ নাসিরেরই। রবিবার সেই দেহাংশ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। এ নিয়ে এলাকায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায় সে জন্য পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, নাসিরের খুনে বিএলও ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন প্রদীপ মণ্ডল এবং সাগর গাইন নামে দুই ব্যক্তি। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ওই বিএলও নাসিরের স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন। তা জানতে পারার পরে পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। নাসিরের স্ত্রী রিজওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। সেই রোষেই সঙ্গীদের নিয়ে প্রেমিকার স্বামীকে খুন করেন পেশায় শিক্ষক রিজওয়ান।