E-Paper

রাজপুর-সোনারপুরে কোণঠাসা তৃণমূল, এখনই কি স্পষ্ট পুরভোটের ইঙ্গিত?

সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন অরুন্ধতী। অন্য দিকে, সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন ফিরদৌসী।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৯:৫২

— প্রতীকী চিত্র।

বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা এলাকায় কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ— দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলের দুই প্রাক্তন বিধায়ক-প্রার্থী অরুন্ধতী মৈত্র (লাভলি) ও ফিরদৌসী বেগম।

সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন অরুন্ধতী। অন্য দিকে, সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন ফিরদৌসী।

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭টি ওয়ার্ড সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত এবং বাকি ১৮টি ওয়ার্ড সোনারপুর উত্তর বিধানসভার আওতায় পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণের ১৭টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। উত্তরের ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টিতে পরাজিত হয়েছে প্রাক্তন শাসকদল। ফলে, মোট ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টিতেই বিজেপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

সূত্রের খবর, শুধু ওয়ার্ড স্তরেই নয়, সংশ্লিষ্ট বহু বুথেও পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। এমনকি, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাসের নিজের ওয়ার্ডেও তৃণমূল পরাজিত হয়েছে।

সোনারপুর উত্তরের নবনির্বাচিত বিধায়ক, বিজেপির দেবাশীস ধর বলেন, “গত ১৫ বছরের কাটমানি সংস্কৃতি ও দুর্নীতির যোগ্য জবাব দিয়েছেন পুর এলাকার বাসিন্দারা। আগের পুরসভা নির্বাচনে বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ছিল। এ বারের বিধানসভা ভোটে সাধারণ মানুষ স্বাধীন ভাবে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই এই ফল হয়েছে। আগামী পুরসভা নির্বাচনে ৩৫টি ওয়ার্ডেই বিজেপি জয়ী হবে।”

পুর এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুকুর ভরাট, জোর করে জমি দখল, সরকারি জমি বিক্রি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, এ বারের ভোটে সেই ক্ষোভেরই প্রতিফলন ঘটেছে। পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তা ও আলো নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ, পুরপ্রতিনিধি, বিধায়ক কিংবা সাংসদ— কেউই সেই সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি।

পুরসভার কর্মীদের একাংশেরও অভিযোগ, বিভিন্ন বরো অফিসে দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত ঘটেছিল। তাঁদের দাবি, বাড়িতে জলের সংযোগ-সহ একাধিক পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাটমানি নেওয়া হত। অভিযোগের তির পুরপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের দিকেও।

এলাকার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে একের পর এক অবৈধ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং শাসকদল ঘনিষ্ঠ এক শ্রেণির প্রোমোটারকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোটে ইভিএমে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিধায়ক দেবাশীস বলেন, “পুরসভার কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির নথি আমাদের হাতে এসেছে। সরকার গঠনের পরে
সেগুলি নিয়ে তদন্ত করা হবে। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে।”

সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “মানুষকে সমস্ত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। শাসকদলের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP Rajpur-Sonarpur municipality

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy