E-Paper

ন’বছর আগে খুন হওয়া কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই জীবন বদলে গিয়েছে মা বনলতা ঘোষালের। বয়সের ভারে এখন আর সোজা হয়ে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। তবে, এখনও তিনি তাকিয়ে ছেলের খুনিরা কবে শাস্তি পায়, সে দিকে।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৯:১৪
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

ন’বছর আগে, ২০১৭ সালে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সাউথ গড়িয়ার বাসিন্দা সৌমিত্র ঘোষালকে পিটিয়ে খুন করে গ্রামের একটি সুপুরি বাগানে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দিনের বেলাতেই নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছিল সৌমিত্রকে। অভিযোগ ওঠে, বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করেছে তাঁকে। ঘটনার পরে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘদিন এলাকায় আন্দোলন করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অনেক দিনের আন্দোলনের পরে অভিযুক্তদের কয়েক জন গ্রেফতার হলেও তারা বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। তাই কোনও বিচারই পায়নি মৃতের পরিবার। অবশেষে ন’বছর পরে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনে ফের আশার আলো দেখছেন নিহতের পরিবারের সদস্যেরা। শনিবার ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেখা করলেন নিহতের পরিবারের সঙ্গে। আশ্বাস দিলেন ন্যায়বিচারের। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে খুশি সৌমিত্রের পরিজনেরা। তাঁদের দাবি, সরকার বদলানোয় তাঁরা খুশি। আর প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বাস দিয়েছেন, তখন নিশ্চয়ই বিচার পাবেন তাঁরা।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই জীবন বদলে গিয়েছে মা বনলতা ঘোষালের। বয়সের ভারে এখন আর সোজা হয়ে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। তবে, এখনও তিনি তাকিয়ে ছেলের খুনিরা কবে শাস্তি পায়, সে দিকে। বনলতা বললেন, “ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সৌমিত্র। আর ফেরেনি। পাড়ার লোকজন বলল, ওকে মেরে হাত-পা বেঁধে সুপুরি গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ও মোদীর দল করত। তাই ওকে খুন করল। আজ প্রধানমন্ত্রী যে আমাদের সঙ্গে দেখা করলেন, তাতে আশা করছি, এ বার বিচার পাব। বিজেপি সরকার এসেছে বলে আমরা খুব খুশি। আজ যদি ছেলে বেঁচে থাকত, কত আনন্দ পেত! ও বলত, তৃণমূলের অত্যাচার সহ্য করা যায় না। তাই বিজেপি করত। মাঝেমধ্যে ঠাকুর তৈরির কাজও করত।”

নিহতের বৌদি শিখা ঘোষালের কথায়, “সৌমিত্র খুব নিষ্ঠা সহকারে দলের কাজ করত। বিজেপি করত বলেই এলাকার তৃণমূল নেতাদের খুব রাগ ছিল ওর উপরে। ও যাতে এই এলাকায় বিজেপি-কে শক্তিশালী করতে না পারে, তার জন্য ওকে হুমকি দেওয়া হত। কিন্তু সৌমিত্র খুব সাহসী ছিল। কারও হুমকিতে ভয় পেত না। আর সেটাই ওর কাল হল। সেই রাগেই ওকে সুপুরি বাগানে নিয়ে গিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। হাত-পা বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পরে আমরা বার বার বিচারের আবেদন জানালেও তা পাইনি। তৎকালীন বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও বিচার পাইনি। আজ যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ডেকেছিলেন, তাতে আমরা খুশি। আশা করি, এ বার বিচার পাব।”

প্রধানমন্ত্রী সৌমিত্রের পরিবারের সঙ্গে দেখা করায় প্রতিবেশীরাও খুশি। তাঁদেরই এক জন জয়ন্ত ঘোষাল বলেন, “উনি যখন ডেকেছেন, তখন বিচার কিছু একটা হবেই। সেই সময়ে তৃণমূলের অত্যাচারে অকালে প্রাণটা ঝরে গিয়েছিল। মা এখনও হাহাকার করছেন ছেলের জন্য।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Narendra Modi BJP Murder Case Baruipur

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy